Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়ছে বিএলও মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের দায় রাজ্যের উপরই চাপাল কমিশন

‘কোনওভাবেই চাপ নিতে পারছি না। এসআইআরের কাজ করতে পারছি না। গত কয়েকদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে আছি। ভেরি স্যরি। আমার প্রিয় স্ত্রী সঙ্গীতা, আদরের (সন্তান) কৃশ।’ —পকেটে এমনই এক চিরকূট লিখে আত্মঘাতী হলেন ৪০ বছরের অরবিন্দ ভাদের। গুজরাতের ছারা গ্রামের কোডিনার এলাকার বিএলও।

বাড়ছে বিএলও মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের  দায় রাজ্যের উপরই চাপাল কমিশন
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘কোনওভাবেই চাপ নিতে পারছি না। এসআইআরের কাজ করতে পারছি না। গত কয়েকদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে আছি। ভেরি স্যরি। আমার প্রিয় স্ত্রী সঙ্গীতা, আদরের (সন্তান) কৃশ।’ —পকেটে এমনই এক চিরকূট লিখে আত্মঘাতী হলেন ৪০ বছরের অরবিন্দ ভাদের। গুজরাতের ছারা গ্রামের কোডিনার এলাকার বিএলও। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের কাজের চাপ না নিতে পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। পরিবারের সেইরকমই দাবি।

Advertisement

মোদি রাজ্য গুজরাতে শুক্রবারের ওই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছে। কাজের আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই। এখনও পর্যন্ত ন’জন বিএলও রাজ্যে রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন বলে কমিশনের খবর। যদিও তাদের হেলদোল নেই। উলটে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৮২৮ জন বিএলও কাজ করছেন।  মৃত্যু অবশ্যই দুঃখের। কিন্তু তার সঙ্গে এসআইআর’কে জোড়া ঠিক নয়।
নির্বাচন কমিশন আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেবে না। কাজের চাপ বলেও মানতে নারাজ। বলা হচ্ছে, বিএলওরা সারা বছরই নির্বাচন কমিশনের কাজ করেন। তার জন্য আগে ছ’ হাজার টাকা পেতেন। সেটি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। সঙ্গে এসআইআরের কাজের জন্য অতিরিক্ত ছ’হাজার টাকা। তাছাড়া বিএলও’রা রাজ্য সরকারের কর্মী। ফলে যদি কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, সেটা রাজ্য সরকারই তাদের সরকারি নিয়ম মোতাবেক করবে। কিন্তু বিএলও’রা তো ভারতের নির্বাচন কমিশনেরই কাজ করছে। রাজ্যের নয়। তাহলে? প্রশ্ন করার কমিশন চুপ। 
আর এভাবে মৃত্যু, কাজের অতিরিক্ত চাপ, গলদ সময় বেছে নেওয়ার মতো বিষয় সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন। সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকেছে কেরল সরকার। কেরলের মামলার শুনানি ছিল দেশের হবু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে। কেরলে চলছে পুরভোট পর্ব। তাই এই সময়ে এসআইআর আপাতত বন্ধ রাখারই আবেদন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সরকারের। আবেদন শুনে কমিশনকে জবাব দেওয়ার নোটিশ ইস্যু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২৬ নভেম্বর শুনানি। 

সম্পর্কিত সংবাদ