Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বল্লভপুর অভয়ারণ্যে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা কম, উদ্বেগ

বল্লভপুর অভয়ারণ্যে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা কম, উদ্বেগ
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের বল্লভপুর অভয়ারণ্যের ঝিলগুলিতে এবার পরিযায়ী পাখির সংখ্যা অনেক কম। বছরের পর বছর যেভাবে বিদেশি পাখির আনাগোনা কমছে তাতে চিন্তিত বন বিভাগের আধিকারিকরা। মূলত নভেম্বরের শেষদিকে হালকা শীত পড়তেই সাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন প্রভৃতি দেশ ও তিব্বতের মানস সরোবর সহ হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে এই পাখিরা আসে।‌ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের জলাশয়ে তারা ভিড় জমায়। কিন্তু এবার পাখিদের পরিচিত সেই ভিড় দেখা যায়নি। যদিও এবছর এখনও জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েনি। পাশাপাশি সোনাঝুরি খোয়াই হাটের শব্দদূষণকেও দায়ী করেছেন বনদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকরা। পাখির সংখ্যা কমলেও বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী এসেছে বলে বনদপ্তরের দাবি। বল্লভপুর অভয়ারণ্যের ভিতর তিনটি বিশাল জলাশয় রয়েছে। সবচেয়ে বড় জলাশয়টির আয়তন ১৫.৫ হেক্টর। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে বারহেডেড গুজ, গ্রেল্যাগ গুজ, নর্দান পিনটেল, ইন্ডিয়ান ডার্টার, রেড ক্রেসটেড পচার্ড, ইউরেশিয়ান কুট প্রভৃতির দেখা মিলত। এবার ভিন্ন প্রজাতির পাখি এলেও সংখ্যা খুবই কম। এর কারণ হিসেবে সোনাঝুরি খোয়াই হাটের বাড়বাড়ন্তকে দায়ী করেছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। এছাড়া ডিসেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও জাঁকিয়ে ঠান্ডা দেখা যায়নি। তাই পাখির সংখ্যা কমেছে বলে অনেকে মনে করছেন। 
Advertisement
পরিবেশপ্রেমী শংকর মুখোপাধ্যায় ও সৃজিতা মুখোপাধ্যায় বলেন‌, অভয়ারণ্য সংলগ্ন সোনাঝুরি খোয়াইয়ের ওই এলাকায় উত্তরোত্তর বাড়ি এবং রিসর্ট গজিয়ে উঠছে। এছাড়া হাটের ভিড় ও যানবাহনের শব্দ দূষণের ফলে পাখিরা অভয়ারণ্যকে আর নিরাপদ মনে করছে না। পাশাপাশি, ওই ঝিলগুলি ঘাস, কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গিয়েছে। এতে জলের গভীরতা কমে যাওয়ায় পাখিদের খাবার মিলছে না। সেকারণেও পরিযায়ী পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই সময় থাকতে বনদপ্তরকে আরও তৎপর হতে হবে। না হলে আগামী প্রজন্ম আর পরিযায়ী পাখি দেখতে পাবে না। 
বোলপুর ডিভিশনের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মন বলেন, কম ঠান্ডার কারণে শুধু বল্লভপুরেই নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের জলাশয়ে পরিযায়ী পাখিদের পরিচিত ভিড় দেখা যায়নি। এছাড়া খোয়াই হাট যেভাবে বেড়ে চলেছে তার জন্য শব্দদূষণ বাড়ছে। পাখিদের ফেরাতে গেলে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ‌
সম্পর্কিত সংবাদ