Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্লক সহ সভাপতির দায়িত্ব বহিষ্কৃত নেতাকে, প্রশ্ন দলে

ব্লক সহ সভাপতির দায়িত্ব বহিষ্কৃত নেতাকে, প্রশ্ন দলে
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: জেলা তৃণমূল সভাপতির সই করা প্যাড ব্যবহার করে বহিষ্কৃত নেতাকে গঙ্গারামপুর ব্লক সহ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল।  ব্লক সভাপতি শঙ্কর সরকার বহিষ্কৃত নেতা ফইজুল মিয়াঁকে সহ সভাপতি হিসেবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পর দলেই শোরগোল। এতে দলে গোষ্ঠীকোন্দলের চোরাস্রোত ফের বইতে শুরু করেছে। 
Advertisement
গত শুক্রবার গঙ্গারামপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে বৈঠক করে ব্লক নেতৃত্ব। সেখানে ফইজুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে দলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের সই থাকলেও জেলা চেয়ারম্যান তোরাফ হোসেন মণ্ডলের নেই। বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার নিয়োগপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল। দলের একাংশের অভিযোগ, জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের সই করা প্যাডের অপব্যবহার হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলা সভাপতি সুভাষ। ‘সম্পূর্ণ অন্ধকারে’ তিনি।
গত পঞ্চায়েত ভোটে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ জেলার মোট ১৯ জন তৃণমূল কর্মীকে বহিষ্কার করে রাজ্য নেতৃত্ব। সেই নেতাদের এখনও দলে নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গঙ্গারামপুরের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের বহিষ্কৃত নেতাকে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় দলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীদের একাংশ। এক নেতার কথায়, গঙ্গারামপুরের ব্লক সভাপতির এত সাহস, যে তিনি জেলা সভাপতির নির্দেশ ছাড়াই সই করা প্যাড ব্যবহার করে কাউকে দায়িত্বে নিয়ে আসবেন! এর পিছনে নিশ্চয়ই বড় শক্তি রয়েছে। যদিও বহিষ্কৃত নেতাকে দলে নেওয়া ও পদ দেওয়া নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের। বলেন, আমার সই করা প্যাডের অপব্যবহার হয়েছে। আমাকে না জানিয়েই ব্লক কমিটি এই কাজ করেছে। যদিও গঙ্গারামপুর ব্লক সভাপতি শঙ্কর সরকারের দাবি, বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ফইজুল মিয়াঁকে ব্লকের সহ সভাপতি করার সিদ্ধান্ত জেলা সভাপতির। তাঁর সই করা প্যাড আমি বৈঠকে তুলে দিয়েছি। এখন তিনি অস্বীকার করলে আমার কিছু বলার নেই।
বহিষ্কৃত নেতাকে দলে এনে দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের জেলা চেয়ারম্যান তোরাফও। তাঁর সাফ কথা, আমাকে অন্ধকারে রেখে জেলা সভাপতি বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে অন্যায় করেছেন। এভাবে কাজ করা যায় না, দলের একটা শৃঙ্খলা রয়েছে। জেলা চেয়ারম্যানের মন্তব্যে সহমত দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃণাল সরকারও। বলেছেন, আমরা বিষয়টি দলের শৃঙ্খলা কমিটিকে জানাব। যাতে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখে। 
জেলা সভাপতিকে একহাত নিয়ে জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃণাল বলেন, জেলা সভাপতির সই করা প্যাডের অপব্যবহার হয়ে থাকলে তিনি আইনের দ্বারস্থ হোন। যাঁরা অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পর্কিত সংবাদ