Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দারা

বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দারা
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ অশান্ত। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা পূর্ববতী সময়ের দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্তবাসীকে। খালেদা জিয়ার জমানায় নদীয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বারবার তাণ্ডব চালিয়েছে ওপারের দুষ্কৃতীরা। ধান, পাটের মতো অর্থকরী ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া, গোরু, মোষ চুরি করা থেকে গৃহস্থের বাড়িতে লুটপাট চালানোর ঘটনা ঘটেছে। কাজ সেরে দুষ্কৃতীরা একবার ওপারে পালিয়ে গেলে পুলিস ও প্রশাসনের কিছুই করার থাকত না। নদীয়ায় ২২২ কিমি দৈর্ঘ্যজুড়ে বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। এর মধ্যে স্থলে ১৯৪.৩ কিমি ও নদীতে মাত্র ৪ কিমি ফেন্সিং রয়েছে। নদী এলাকায় ১৩.৫ কিমি ও স্থলে ১০.২ কিমি এলাকায় কোনও ফেন্সিং নেই। অর্থাৎ অরক্ষিত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ২৩.৭ কিমি। এর মধ্যে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে প্রায় আড়াই কিমি এলাকায় কোনও ফেন্সিং নেই। এই সুযোগে ওই ব্লক দিয়ে এদেশে একাধিক বাংলাদেশি জঙ্গি অনুপ্রবেশ করেছে। সেসব স্মৃতি কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দাদের এখনও টাটকা। নদীয়ায় জেএমবি জঙ্গিদের কার্যকলাপ সে সময়ে বেড়ে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে নিহত জেএমবি জঙ্গি শাকিল গাজি করিমপুরের বারবাকপুরের মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল। ওই ঘটনায় পলাতক করিমপুর ২ ব্লকের থানারপাড়া থানার গমাখালির জহিরুল শেখ পরে এনআইএ-র হাতে ধরা পড়ে। জহিরুলের মতো জেএমবির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কালীগঞ্জ ব্লকের মির্জাপুরের গিয়াসুদ্দিন মুন্সিকেও এনআইএ ধরেছে। এদের মাধ্যমে অনেকের মগজধোলাই হয়েছে। নদীয়ায় জেএমবির শিকড় ছড়িয়ে পড়েছিল। বছর চোদ্দ আগে সীমান্ত মুরুটিয়া থানার পাইকসা গ্রামে ‘মামা’ নামে পরিচিত কুখ্যাত জঙ্গি সুব্রত বাইন নৌকোর ওপর বাড়ি করে থাকত। পরে তাকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাসস্থান কলকাতার পাম অ্যাভিনিউ থেকে ধরা হয়। নদীয়ার তেহট্ট মহকুমায় প্রায় ন’ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত অরক্ষিত। ভীমপুর থানার রাঙিয়াপোতা, মহাখোলা নিয়ে প্রায় সাড়ে ছ’ কিমি, কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায় প্রায় আড়াই কিমি, হাঁসখালি থানা এলাকায় ৩.৭ কিমি এলাকায় নদীর ওপর কাঁটাতার নেই। ধানতলা থানা এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কিমি সীমান্তে ফেন্সিং নেই। এর বেশির ভাগটাই নদী। গোয়েন্দারা বারবার জানিয়েছে, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে নদীয়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা, জেএমবি সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা অনুপ্রবেশ করতে পারে। তাই সীমান্ত লাগোয়া বাসিন্দারা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রমাদ গুনছেন। মাস খানেক আগে কাঁটাতারের ওপারে নাস্তিকপুরে জমি চাষ করতে যাওয়া গেদে দক্ষিণপাড়ার চাষি রামপ্রসাদ মণ্ডলের দুটি গোরু চুরি হয়ে যায়। রামপ্রসাদবাবু বিএসএফ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েও ফল পাননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের গোরু ওপারে মাঠে চরাতে গিয়ে চুরি হয়েছে। সেই গোরু আমরা আর পাইনি। এখন বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, তাতে আমরা আতঙ্কে। বানপুর মাটিয়ারি পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ হালদার বলেন, ‘সীমান্তের মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। তাঁরা আমাদের আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন।’ এ প্রসঙ্গে ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট বিএসএফের সুজিত কুমার আশ্বস্ত করে বলেন, ‘গোটা সীমান্ত এলাকায় আমরা নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছি। আতঙ্কের কারণ নেই।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ