Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে কোচবিহার-কলকাতা রুট নিয়ে কী উদ্যোগ, সাংসদের প্রশ্নের উত্তর দিল রেল

বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে কোচবিহার-কলকাতা রুট নিয়ে কী উদ্যোগ, সাংসদের প্রশ্নের উত্তর দিল রেল
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: কোচবিহার থেকে কলকাতা যাতায়াতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের ভিতর লালমণিরহাট, রংপুর দিয়ে পুরনো রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই রেলপথ ফের চালুর ভাবনা রেলের। সংশ্লিষ্ট রেলরুট আবার চালুর দাবিতে কোচবিহারের এমপি হওয়ার পর জুলাই মাসে সরব হয়েছিলেন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। গীতালদহ হয়ে বাংলাদেশে রেলপথ চালুর বিষয়ে তাঁর সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে রেলমন্ত্রক। এই রেলপথ চালুর ব্যাপারে কী উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রক, তা তুলে ধরে বিভাগীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী নবনীত সিং এমপি’কে চিঠি দিয়েছেন। 
Advertisement
সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রক সে দেশের কাউনিয়া জংশন থেকে রংপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ৫৫ কিমি রেললাইনের গেজ পরিবর্তনের কাজ করছে। পাশাপাশি বালুরঘাটের হিলি ও বাংলাদেশের পার্বতীপুর জংশন পথে চূড়ান্ত সমীক্ষাও শেষ হয়েছে। এছাড়া ভারতের গীতালদহ ও বাংলাদেশের লালমণিরহাট, বামনহাট, সোনাহাট এবং ধুবড়ির গোলোকগঞ্জ এই তিন সীমান্তে রেললাইন পাততে সমীক্ষার পর কাজেরও অনুমোদন মিলেছে। বিদেশ মন্ত্রকের এখনও সম্মতি না মেলায় সেই কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে। 
বৃহস্পতিবার জগদীশবাবু বলেন, গীতালদহ থেকে বাংলাদেশ হয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত রেলপথ চালুর দাবি কোচবিহারবাসীর দীর্ঘদিনের। এক সময় এই রুটে ট্রেন চলত। গীতালদহে একটি অফিসও আছে। গীতালদহ থেকে রংপুর, লালমণিরহাট হয়ে কলকাতা পর্যন্ত এই রেলপথ চালুর বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছিলাম। সেই প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নবনীত সিং একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁর মন্ত্রক এই রুট চালুর জন্য কী উদ্যোগ নিয়েছে, চিঠিতে তা জানিয়েছেন। 
ব্রিটিশ আমলে কোচবিহার থেকে দিনহাটা, গীতালদহ হয়ে বাংলাদেশের মোগলহাট, লালমণিরহাট, কাউনিয়া, রংপুর, পার্বতীপুর হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলত। এই পথটির মোট দূরত্ব ছিল ৫২৫ কিমি। এরমধ্যে কলকাতা থেকে পার্বতীপুরের দূরত্ব ছিল ৪০৬ কিমি। কলকাতা থেকে রওনা হওয়া ট্রেনটি কাঁচরাপাড়া, রানাঘাট হয়ে দর্শনা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পার্বতীপুর হয়ে রংপুর, কাউনিয়া, লালমণিরহাট, মোগলহাট দিয়ে গীতালদহ, দিনহাটা হয়ে কোচবিহারে যাতায়াত করত। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেলপথ সহ গীতালদহে ধরলা নদীর উপর থাকা দুই দেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী রেল সেতুটি। তারপর থেকে এখনও ধরলা নদীর মাঝে পরিত্যক্ত অবস্থায় অতীতের রেল যোগাযোগের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেতুটি। নতুন করে আবার রেল পরিষেবা গীতালদহ হয়ে বাংলাদেশের মধ্যদিয়ে চালু হলে কোচবিহার থেকে কলকাতার দূরত্ব কমে যাবে প্রায় পৌনে দু’শো কিমি। 
বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, এই রেলপথ চালু হওয়া খুব জরুরি। এতে কোচবিহার-কলকাতার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ফলে জেলার ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
সম্পর্কিত সংবাদ