Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশ থেকে চায়না রসুন ঢোকার শঙ্কা, নজরদারি বাড়ছে 

বাংলাদেশ থেকে চায়না রসুন ঢোকার শঙ্কা, নজরদারি বাড়ছে 
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: বাংলাদেশ থেকে সীমানা পেরিয়ে দেদার চীনা রসুন ঢুকছে বাংলায়। মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ার বাজারে নিষিদ্ধ চীনা রসুন উদ্ধার হলেও বীরভূমের বাজারে এখন এই ক্ষতিকারক রসুন ঢোকেনি বলে আশার আলো দেখিয়েছে পুলিসের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। তবে সীমানা পেরিয়ে বাংলায় যখন এই নিষিদ্ধ রসুন ঢুকছে তখন এই জেলাতেও ঢুকে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস। তাই আগে থেকেই জেলা পুলিসের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এই রসুন যাতে বাজারে ঢুকতে না পারে তার জন্য অভিযান শুরু করেছে। বুধবার সকালে হঠাৎ সিউড়ি শহরের বিভিন্ন সব্জি বাজার, আড়ত, ব্যবসায়ীদের গোডাউনে হানা দেয় পুলিস। সেখানে গিয়ে সব্জি ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। বাজার থেকে রসুনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি সব্জি বিক্রেতা ও আড়তদারদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাঁরা কোনওভাবেই চীনা রসুন বিক্রি না করেন। 
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, এই রসুন কিছুটা লালচে ও বড় ধরনের দেখতে হয়। বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহারের পর সেটি সাদা রঙের দেখতে হয়। এই রসুন চাষের সময় মিথাইল ব্রোমেইড নামে একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় ছত্রাকনাশক হিসেবে। এই রাসায়নিক মানব শরীরের কিডনি ও লিভারের ব্যাপক ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, শরীরের নার্ভাস সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত সিউড়ির বাজারে স্থানীয় রসুন পাওয়া যাচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। কিন্তু এই চীনা রসুন বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে। 
জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ ধরনের এই রসুনবীজ চীন থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশ উৎপাদন করছে। আবার কখনও চীন থেকে ওই রসুন বাংলাদেশ সরাসরি কিনে নিচ্ছে। কিন্তু এই রসুন ২০১৪ সালে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। এই রসুন উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই আইনত অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবেশ অশান্ত থাকায় সেই চীনা রসুন সীমানা পেরিয়ে এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত মূর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় এই চীনা রসুন পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু পুলিসের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী এই রসুন বাংলার অন্যান্য জায়গাতেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীয়ার তেহট্ট ও মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় ওই রসুন উদ্ধার হয়েছে। পুলিসের দাবি, প্রতিবেশী দু’টি জেলায় যখন এই রসুন পাওয়া গিয়েছে তখন এই জেলায় ঢুকতে বেশি সময় লাগবে না। তাই আগে থেকেই আগাম সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিস। গোটা জেলাজুড়ে সব্জিবাজার, আড়তদার থেকে শুরু করে সর্বত্র নজর রাখছে পুলিস। 
বুধবার পুলিসি অভিযানের পর সিউড়ির আড়তদার ছোটন চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা স্থানীয় এলাকার উৎপাদিত রসুন বিক্রি করি। জেলা পুলিসের ডিএসপি ডিইবি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশ থেকে এই নিষিদ্ধ চীনা রসুন ঢুকছে। এই রসুন শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। বীরভূম জেলায় যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ