Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশ সীমান্তে সক্রিয় ভারতবিরোধী শক্তি, জালনোট ও গোরুপাচারকারীদের দাপট, নজরদারি দু’দেশের সেনার

বাংলাদেশ সীমান্তে সক্রিয় ভারতবিরোধী শক্তি, জালনোট ও গোরুপাচারকারীদের দাপট, নজরদারি দু’দেশের সেনার
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভারত বিরোধী শক্তি সক্রিয় বাংলাদেশ সীমান্তে। পর পর উত্তরবঙ্গের দু’টি সীমান্তে গোরু পাচারকারীদের হামলা ও জালনোট পাচারকারীদের তৎপরতা দেখেই এমন অনুমান গোয়েন্দাদের। তাদের সন্দেহ, কোনও প্রভাবশালী মহলের একাংশের মদতেই এমন হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে বলে খবর। এজন্য উত্তরবঙ্গে সীমান্তে ভারতীয় সেনাও নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে সীমান্তে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 
Advertisement
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ। পদ্মাপারে নিজেদের ঘরোয়া অশান্তি সামাল দিতে কার্যত ব্যর্থ সেই দেশের অন্তবর্তী সরকার। এজন্যই উত্তরবঙ্গের সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গোরু পাচারকারীরা। শুক্রবার জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ির সিংপাড়ায় বিএসএফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সশস্ত্র বাংলাদেশি গোরু পাচারকারীরা। পাল্টা বিএসএফ গুলি চালালে এক বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়। 
সেই ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই শনিবার দিনহাটার মদনাকুড়াতেও বিএসএফ জওয়ানদের উপর আক্রমণ করে সশস্ত্র বাংলাদেশি গোরুপাচারকারীরা। 
শুধু তাই নয়, মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চরিঅনন্তপুর গ্রামে সক্রিয় জালনোট পাচারকারীরা। ডিসেম্বর মাসেই তিনটি জালনোট পাচারের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার জালনোট। সেগুলি বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে এখানে পাঠানো হয়েছিল বলে খবর। ঘটনাগুলি পর্যালোচনার পর গোয়েন্দাদের ধারণা, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সক্রিয় হয়েছে জেহাদি ও কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন। যাদের টার্গেট ভারতকে দুর্বল করা। ভারত বিরোধী সেসব শক্তি গোরু পাচারকারীদের মাধ্যমে বিএসএফের উপর ক্রমাগত হামলা চালানোর ছক কষেছে। উদ্দেশ্য বিএসএফের মনোবল দুর্বল করে অবাধে গোরু ও জালনোট পাচার নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য গোরু পাচারকারীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।  
বিএসএফের উত্তরবঙ্গের অফিসাররা অবশ্য জানান, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে জওয়ানরা সক্রিয়। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে হেঁটে ও গাড়িতে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। নদীপথে নামানো হয়েছে স্পিড বোট। ইতিমধ্যে বেশকিছু পাচাকারীকে ধরা হয়েছে। সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে। 
এদিকে, সীমান্তে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পঞ্চগড় ও রংপুরে সীমান্তে বাংলাদেশ সেনা নামিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দু’টি জায়গায় সেনা বাহিনীর ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে পরিত্যক্ত একটি বিমানবন্দর ওরা ব্যবহার করছে বলে খবর। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। কারণ সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ‘চিকেন নেক’ শিলিগুড়ির দূরত্ব বেশি নয়। চাঞ্চল্যকর এমন খবর পেয়ে ভারত সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়ি ও কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী নজর রাখছে বলে জানান গিয়েছে।      
সম্পর্কিত সংবাদ