Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে প্রহৃত ভারতীয় যুবক

বাংলাদেশে প্রহৃত ভারতীয় যুবক
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:  বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি চলছেই। সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। সঙ্গতকারণেই ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা। এর মধ্যেই বাংলাদেশে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বেলঘরিয়ার যুবক সায়ন ঘোষ। এমনকী তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাথর দিয়ে আঘাত করে কিছু দুষ্কৃতী তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল, টাকা। কোনওরকমে প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন সায়ন। 
Advertisement
গেদে সীমান্ত দিয়ে শনিবার বিকেলে তিনি বাড়ি ফেরেন।  বিধ্বস্ত সায়ন তখনই হাড়হিম করা সেই অভিজ্ঞতার কথা শোনান সাংবাদিকদের। গোটা বিষয়টি বাংলাদেশের হাইকমিশনকে জানিয়ে বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার তিনি হাইকমিশনের দ্বারস্থ হবেন। 
জানা গিয়েছে, বছর বাইশের সায়ন ঘোষ ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশে ঘুরতে যান। সেখান থেকে ২৬ নভেম্বর রাতে তাঁর ফেরার কথা ছিল। তার আগে বন্ধু ধ্রুব মাহামুদকে নিয়ে বাইরে আইসক্রিম খেতে বের হয়েছিলেন। এই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের ডাকে। কাছে যেতে বাড়ির ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়। ওই দুষ্কৃতীরা সায়নের গলা শুনে ভারতীয় বুঝতে পারে। আচমকা ছুরি বের করে সায়নকে মারধর করে। পাথর দিয়ে মুখে ও গালে মারা হয়। তাঁর মাথা ফেটে যায়। মোবাইল কেড়ে নেয়।  পকেটে থাকা ৭-৮ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এই অবস্থায় ঢাকা বাগানবাড়ি অঞ্চলের এমার্জেন্সি লাইনে ফোন করে পুরো ঘটনাটি জানান। কিন্তু কোনওপ্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে শাসানো হয় বলে অভিযোগ। 
গেদে সীমান্তে ফিরে সায়ন বলেন, আমার বন্ধুকে বলি আমি তো চলে যাব। তাই চল আইসক্রিম খেয়ে আসি। এই সময় ৫-৬ জন আমাকে ডাকে। ওরা জিজ্ঞেস করে কোথায় থাকিস? আমি বাংলাদেশের একটা জায়গার নাম বলি। ওরা গলা শুনে বলে তুই ভারতীয়। আচমকা ছুরি বের করে। চড়থাপ্পড়  মারে। পাথর দিয়ে মুখে গালে মারে। পকেটে থাকা ৭-৮ হাজার টাকা তারা কেড়ে নেয়। মোবাইল কেড়ে নেয়। আমাকে  সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও মারধর করে। তার ফোনও কেড়ে নেয়। তারপরই আমি এমার্জেন্সি লাইনে ফোন করি। সায়ন বলেন, কিন্তু ওখান থেকে তারা বিভিন্ন প্রশ্ন করে। কেন এখানে এসেছ বলে জেরা করে। আমি এরপর শ্যামপুর থানায় যায়। পুলিস  অভিযোগ নেয়নি। ওরা বলে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে এসো। পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যাই। এদিক ওদিক করতে করতে রাত হয়ে যায়। পরের দিন  সকালে কেস করব ঠিক করি। পরের দিন সকালে বন্ধু ধ্রুবর বাড়িতে  চলে আসে পুলিস, উকিল সহ ক্ষমতাসীন লোকজন। তারা  শাসিয়ে যায়। ওরা বলে, ও কেস করে চলে যাওয়ার পর ধ্রুব মাহামুদের পরিবারের উপর আক্রমণ হবে। সায়ন বলেন,  আমাকে কেউ সহযোগিতা করেনি। তাই আমি বন্ধুকে বলি তুই সমস্যায় পড়বি। আমি দেশে চলে যাই। বাংলাদেশ হাই কমিশন এর একটা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক চাইছেন সায়ন। এই ঘটনায় গোটা সীমান্ত কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মানুষজনও আতঙ্কিত। গেদের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করা চিত্তরঞ্জন নাথ বলেন, ওই যুবক গেদেতে যখন আসে তখন দেখেছি খুব ভীত-সন্ত্রস্ত। আমরা চাইছি এর বিচার হোক।
সম্পর্কিত সংবাদ