Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে ফের সক্রিয় জালনোট পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড ‘মুন্সি’!

বাংলাদেশে ফের সক্রিয় জালনোট পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড ‘মুন্সি’!
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ফের বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় জালনোট পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড ‘মুন্সি’! দু’সপ্তাহে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট উদ্ধার হওয়ায় এমন অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরই খোলস ছেড়ে বেড়িয়েছে মুন্সি। যারসঙ্গে পাকিস্তান ও দুবাইয়ের মদতপুষ্ট আন্তর্জাতিক জালনোট পাচার সিন্ডিকেটের সংস্রব রয়েছে। এদিকে, চারবছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও সেই মুন্সির নাগাল পায়নি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তারা এ ব্যাপারে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে বলে খবর। 
Advertisement
মাঝে বেশকিছু দিন নিষ্ক্রিয় ছিল জালনোট পাচার চক্র। তিনমাস আগে বাংলাদেশে জোর করে ফেলে দেওয়া হয় শেখ হাসিনার সরকার। এরপরই মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে জালনোট পাচারকারীরা। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে গোয়েন্দারা তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছেন। 
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতীয় জালনোট পাচার চক্রের মূল ঘাঁটি বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জে। সেখানকার শিবগঞ্জে স্ট্যাগ ইয়ার্ড রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আনা হাই কোয়ালিটির জালনোট মজুত হচ্ছে সেখানে। যার অন্যতম নিয়ন্ত্রক ‘মুন্সি’। হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর সে তৎপরতা বাড়িয়েছে। সে জালনোটের কনসাইনমেন্ট মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায় পাঠাচ্ছে বলে খবর। যা এখান থেকে দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। 
চলতি মাসেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার জালনোট। ৮ নভেম্বর কালিয়াচকের বালিয়াডাঙায় অভিযান চালিয়ে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার জালনোট সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সংশ্লিষ্ট নোটগুলির কোয়ালিটি ‘এ’ গ্রেড। এরপর ১২ নভেম্বর কালিয়াচকের আইটিআই মোড় থেকে ১ লক্ষ টাকার জালনোট সহ ত্রিপুরার দুই ক্যারিয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ওই দিনই মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা স্টেশনের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার জালনোট সহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। ঘটনাগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্রব রয়েছে বলেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ। 
সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির সঙ্গে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা মুন্সির গ্যাংয়ের যোগাযোগ রয়েছে বলেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ। কারণ জালনোট পাচারের পুরনো রুট সম্পর্কে মুন্সি অবহিত। যারসঙ্গে পাকিস্তান ও দুবাইয়ে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জালনোট সিন্ডিকেটের শীর্ষ মাথাদের যোগাযোগ রয়েছে। সে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরের পুরনো রুটকে ব্যবহার করছে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের টোপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই থানা এলাকায় নতুন নেটওয়ার্ক বা চেনকে তৈরির ছক কষেছে বলেই মনে হচ্ছে। 
এদিকে, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি শিলিগুড়ির বাগডোগরা মোড় থেকে ৪ লক্ষ ১ হাজার টাকার জালনোট সহ বিহারের একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিআরআই। সেই মামলা এনআইএ’র হাতে। তারা সেই মামলার তদন্তে নেমে ‘মুন্সি’-র নাম জানতে পারে। এনআইএ সূত্রের খবর, ওই জালনোট পাচারের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মুন্সি। বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাকে ধরা যায়নি। তাকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।    
সম্পর্কিত সংবাদ