Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে পাচারের নতুন আইটেম মোষ

বাংলাদেশে পাচারের নতুন আইটেম মোষ
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: গোরু, মাদক, চিনি থেকে ইঁদুর মারা বিষ, এবার বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে ভারতীয় মোষ। একদিকে গোরু পাচারে কড়াকড়ি সঙ্গে ওপার বাংলায় দামের ফারাক, দুইয়ের যুগলবন্দিতে বাড়ছে বাংলাদেশে মোষ পাচার। অল্প সময়ে অধিক মুনাফার লোভে সীমান্তের চর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে মোষ পাচারে ঝোঁক বাড়ছে চোরাকারবারিদের। শীতের ঘন কুয়াশাকে ঢাল করে রাতের অন্ধকারে খোলা সীমান্ত দিয়ে চলছে মোষ পাচারের চেষ্টা। পাচারের কাজে ভাড়া করে আনা হচ্ছে রাখালদের। 
Advertisement
একসময়ে যখন রানিনগর, জলঙ্গির খোলা সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচারের রমরমা চলত। তখন মাঝেমধ্যে কম সংখ্যায় মোষও পাচার হত। তবে ওপার বাংলায় তখন মোষের অতটা চাহিদা ছিল না। ওই সময়ে পাচারকারীদের প্রথম পছন্দ ছিল গোরু। তবে গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা ও বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে অনেকটাই রাশ টানা গিয়েছে গোরু পাচারে। গত কয়েকমাসে জলঙ্গি, সাগরপাড়া, রানিনগরের খোলা সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার ওপার বাংলায় পাচার হয়েছে মোষ।
বিএসএফ সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা গেল, হঠাৎ করেই পাচারের তালিকায় মোষের এক নম্বরে উঠে আসার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। যার প্রথমটি হল গোরু পাচারে কড়াকড়ি। একসঙ্গে একাধিক গোরু কেনা ও তা সীমান্তের গ্রামে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বিএসএফের নজরে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যা মোষের ক্ষেত্রে অনেকটাই শিথিল। আর দ্বিতীয়ট কারণটি অবশ্যই দামের ফারাক। ওপার বাংলায় মোষের মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হয়। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা বেশি। অথচ ভারতীয় বাজারে মোষের মাংস তার অর্ধেক দরে বিক্রিয় করা হয়। আর সেটাই এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় মোষ পাচারের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও একটি সূত্র বলছে, কালো চেহারা হওয়ায় রাতের অন্ধকারে বিএসএফের নজর এড়িয়ে পাচারও কিছুটা সুবিধের। এছাড়াও মোষ শারীরিক ভাবে গোরুর তুলনায় অনেকটা শক্তপোক্ত। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে নদীপথে পরিবহণের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধের। এরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চট করে অসুস্থ হয়ে পড়ে না। এইরকম একাধিক সুবিধা থাকায় পাচারকারীরা মোষ পাচারের দিকে ঝুঁকেছেন। ফেন্সিংহীন সীমান্তগুলি দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে মোষ পাচারের। তবে পাচারে ঝক্কি এড়াতে পুলিসি নজরদারি এড়িয়ে প্রথমে সীমান্তের গ্রামে গোরু-মোষগুলিকে আনা হচ্ছে। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে ওপার বাংলার পাচার করা হচ্ছে।
গত ২৫ নভেম্বর রাতেও ঠিক একই কায়দায় রাখাল ভাড়ায় এনে মোষ পাচারের চেষ্টা করেছিল একদল পাচারকারী। কিন্তু সাঁতার না জানায় মোষ নিয়ে শিয়ালমারী নদী পেরিয়ে যাওয়ার সময় ওয়াজেদ আলি হালসানা নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। তারপরের দিনই বাংলাদেশে পাচারের সময় পাচারকারীদের ধাওয়া করে দু’টি মোষ উদ্ধার করেছিল ১৪৬ নম্বর বিএসএফের চর ভদ্রা ক্যাম্পের জওয়ানরা।
বিএসএফের দাবি, চোরাপাচার রুখতে তাঁরা তৎপর। চোরাকারবারে রাশ টানতে তাঁদের ডিউটি পয়েন্ট জিরো পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে দু’ দেশের মধ্যে পাচার আটকানো সহজ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ