Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে অস্থিরতা, বাড়তি নজর সীমান্তে

বাংলাদেশে অস্থিরতা, বাড়তি নজর সীমান্তে
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের অস্থিরতা বাংলাদেশে। এবার সন্ন্যাসী গ্রেপ্তার ইস্যুতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে বিক্ষোভ চরমে। এরজেরে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুরা অবৈধভাবে উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা। এক সপ্তাহে চার জন অনুপ্রবেশকারীকে ধরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। তারা এর মোকাবিলায় সীমান্ত গ্রামে টহলদারি বাড়িয়েছে। নিয়মিত গ্রামবাসী ও পুলিসের সঙ্গে বৈঠক করছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের চারটি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য থমকে যেতে পারে বলে শঙ্কা। এনিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।
Advertisement
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা সুরক্ষিত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করার পাশাপাশি লুট, হুমকি চলছে। এই অবস্থায় সন্ন্যাসী গ্রেপ্তারের ইস্যুতে ফের তপ্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলছে। সেই ঘটনার প্রভাব উত্তরবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এই অবস্থায় বাংলাদেশে ধৃত সন্ন্যাসীর মুক্তির দাবিতে শিলিগুড়িতেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। এমন প্রেক্ষাপটে বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার নড়েচড়ে বসেছে।
বিএসএফ সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ফ্রন্টিয়ারের অধীনে মালদহের লক্ষ্মীপুর থেকে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত ৯৩৬ কিমি সীমান্ত এলাকা রায়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ স্থলপথ ও কিছুটা জলপথ রয়েছে। অস্থিরতার জেরে সেই দেশ থেকে কেউ যাতে অবৈধভাবে ভারতে আসতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি সীমান্তে দফায় দফায় চলছে পেট্রোলিং। কখনও সাইকেলে, আবার কখনও বাইকে টহলদারি চলছে। নদীপথেও স্পিডবোট নিয়ে টহলদারি চলছে। বিএসএফের শিলিগুড়ি সেক্টরের ডিআইজি কুলদীপ সিং অবশ্য বলেন, সীমান্ত শান্ত রয়েছে। তা হলেও সীমান্তে জওয়ানরা সতর্ক রয়েছে। পেট্রোলিংয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।  
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের। সেসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সেই দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছেই বলে অভিযোগ। যার জেরে মাঝেমধ্যেই বেরুবাড়ির মানিকগঞ্জ, হলদিবাড়ি, হিলি প্রভৃতি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে এপারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। গত এক সপ্তাহে সাত বাংলাদেশিকে ধরা হয়। যার মধ্যে তিনজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিল। ফ্ল্যাগ মিটিং করে তাদেরকে বিজিবির হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। তারা বাকি চার জনকে পাচারের অভিযোগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন থানার হাতে তুলে দিয়েছে। বিএসএফের অফিসাররা বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন নিরীহ বাংলাদেশিকে আটক করে সেদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেদেশে অস্থিরতার জেরেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে গোলমাল নিয়ে শঙ্কিত আমদানি রপ্তানি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, চ্যাংরাবান্ধা, ফুলবাড়ি, হিলি ও মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য থমকে যেতে পারে। এই অবস্থায় সীমান্ত গ্রামগুলি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে পুলিস। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ফুলবাড়ির সীমান্ত গ্রাম স্বাভাবিক রয়েছে। এব্যাপারে বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক চলছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ