অগ্নিভ ভৌমিক, রাঙিয়াপোতা (চাপড়া): চাপড়া ব্লকের মহেশপুর পঞ্চায়েতের রাঙিয়াপোতা গ্রাম। ভারত ও বাংলাদেশ, এই দুই দেশ সেখানে ভাগ হয়েছে এক সরু খালের মাধ্যমে। ভারতে দাঁড়িয়ে ঢিল ছুঁড়লে তা অনায়াসেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে। বছরভর কচুরিপানায় ঢাকা সেই খালই আন্তর্জাতিক সীমান্ত। নেই কাঁটাতারের বালাই। খালের মাঝ বরাবর বাঁশ পোতা। তাতে জড়ানো বিদ্যুৎহীন তার। বিএসএফের ‘কড়া’ নজরদারির মধ্যেও খাল পেরিয়ে অবাধ আনাগোনার হিসেব কেউ রাখে না।
Advertisement
দেশের একদম শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সীমান্ত দেখাচ্ছিলেন রাঙিয়াপোতার বাসিন্দা আব্দুল দফাদার (নাম পরিবর্তিত)। পেশায় চাষি। দিনভর সীমান্তে দাঁড়িয়ে চাষ করতে করতেই ভিন দেশ দেখেন। তিনি বলেন, ‘ওই যে ওপারে মাটির রাস্তা দেখা যাচ্ছে, ওটা বাংলাদেশ। আমরা এপারে খালের যে অংশ রয়েছে সেখানে নামতে পারব না। ওই দেখুন খালের মাঝখানে খুঁটি পোঁতা আছে।’
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির আঁচ পড়েছে সীমান্তের এই গ্রামেও। কাঁটাতারহীন সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় ঘুম উবেছে বাসিন্দাদের। থমথমে পরিবেশ। গ্রামে ঢুকলে তা ভালোই বোঝা যায়। রাস্তা দিয়ে রাইফেল হাতে ঘনঘন বিএসএফের টহলদারি চলছে। আবার খাল বরাবর বিভিন্ন জায়গায় সেন্ট্রি রয়েছে। সেখানে বিএসএফ নজরদারি আরও কড়া। গ্রামে অচেনা কাউকে দেখলেই মুহূর্তে সর্বত্রই খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিএসএফের অতি সক্রিয়তা অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে গ্রামবাসীদের। কিন্তু তাঁদের একটাই দাবি, দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ যেন শেষ করা হয়। জানা গিয়েছে, জমিজটে ফেন্সিংয়ের কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। কাঁটাতার বসে গেলেই রাতের ঘুম স্বস্তিদায়ক হবে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জীবনানন্দ বাড়ুই বলেন, ‘কাঁটাতার না থাকা একটা বড় সমস্যা। আমরা চাই যাতে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসুক।’
এব্যাপারে বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, ‘যেখানে আমাদের কাঁটাতার আছে সেখানে নতুন তার যুক্ত করা হচ্ছে। আর রাঙিয়াপোতায় আমরা জমির ম্যাপিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি দ্রুত কাঁটাতার বসানো যাবে।’
কাঁটাতার না থাকার ফলে রাঙিয়াপোতা গ্রাম পাচারকারীদের কাছে বরাবরই মুক্তাঞ্চল। যা সীমান্তের জিরো লাইনের উপর অবস্থিত। রাঙিয়াপোতা প্রাথমিক স্কুল, রাঙিয়াপোতা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সম্বল। ওই এলাকায় প্রায় ৭০০ ঘর আছে। হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশেই থাকে সেখানে। সীমান্ত এলাকা হলেও ধর্মীয় ভেদাভেদ সেভাবে আঁচ ফেলতে পারেনি। তবে রাতের অন্ধকারে বিএসএফের নজরদারি একটু শিথিল হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পাচারকারীরা। পানাভর্তি খাল পার করতেও খুব একটা সমস্যা হয় না। ফেন্সিডিল, সোনার বিস্কুট, গাঁজা সহ বিভিন্ন জিনিস পাচারের ইতিহাস রয়েছে এই গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, সাম্প্রতিককালে পাচারকারীদের উৎপাত কিছুটা কমেছে। কিন্তু গভীর রাতে পাচারকারীদের উপস্থিতি মাঝে মধ্যেই টের পান তাঁরা।
গ্রামের এক বাসিন্দা আতঙ্কের সুরেই বলেন, ‘খবরে যা শুনেছি বাংলাদেশের অবস্থা ভালো না। অশান্তি চলছে। আমরা একদম সীমান্তে থাকি। দু’ পা হাঁটলেই বাংলাদেশ। ওখানকার পরিস্থিতি আমাদেরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।’
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির আঁচ পড়েছে সীমান্তের এই গ্রামেও। কাঁটাতারহীন সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় ঘুম উবেছে বাসিন্দাদের। থমথমে পরিবেশ। গ্রামে ঢুকলে তা ভালোই বোঝা যায়। রাস্তা দিয়ে রাইফেল হাতে ঘনঘন বিএসএফের টহলদারি চলছে। আবার খাল বরাবর বিভিন্ন জায়গায় সেন্ট্রি রয়েছে। সেখানে বিএসএফ নজরদারি আরও কড়া। গ্রামে অচেনা কাউকে দেখলেই মুহূর্তে সর্বত্রই খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিএসএফের অতি সক্রিয়তা অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে গ্রামবাসীদের। কিন্তু তাঁদের একটাই দাবি, দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ যেন শেষ করা হয়। জানা গিয়েছে, জমিজটে ফেন্সিংয়ের কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। কাঁটাতার বসে গেলেই রাতের ঘুম স্বস্তিদায়ক হবে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জীবনানন্দ বাড়ুই বলেন, ‘কাঁটাতার না থাকা একটা বড় সমস্যা। আমরা চাই যাতে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসুক।’
এব্যাপারে বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, ‘যেখানে আমাদের কাঁটাতার আছে সেখানে নতুন তার যুক্ত করা হচ্ছে। আর রাঙিয়াপোতায় আমরা জমির ম্যাপিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি দ্রুত কাঁটাতার বসানো যাবে।’
কাঁটাতার না থাকার ফলে রাঙিয়াপোতা গ্রাম পাচারকারীদের কাছে বরাবরই মুক্তাঞ্চল। যা সীমান্তের জিরো লাইনের উপর অবস্থিত। রাঙিয়াপোতা প্রাথমিক স্কুল, রাঙিয়াপোতা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সম্বল। ওই এলাকায় প্রায় ৭০০ ঘর আছে। হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশেই থাকে সেখানে। সীমান্ত এলাকা হলেও ধর্মীয় ভেদাভেদ সেভাবে আঁচ ফেলতে পারেনি। তবে রাতের অন্ধকারে বিএসএফের নজরদারি একটু শিথিল হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পাচারকারীরা। পানাভর্তি খাল পার করতেও খুব একটা সমস্যা হয় না। ফেন্সিডিল, সোনার বিস্কুট, গাঁজা সহ বিভিন্ন জিনিস পাচারের ইতিহাস রয়েছে এই গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, সাম্প্রতিককালে পাচারকারীদের উৎপাত কিছুটা কমেছে। কিন্তু গভীর রাতে পাচারকারীদের উপস্থিতি মাঝে মধ্যেই টের পান তাঁরা।
গ্রামের এক বাসিন্দা আতঙ্কের সুরেই বলেন, ‘খবরে যা শুনেছি বাংলাদেশের অবস্থা ভালো না। অশান্তি চলছে। আমরা একদম সীমান্তে থাকি। দু’ পা হাঁটলেই বাংলাদেশ। ওখানকার পরিস্থিতি আমাদেরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।’



