Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলাদেশে মুজিবের নাম মুছে দিল ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে মুজিবের নাম মুছে দিল ১০ বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নাম মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশ। কয়েকদিন আগে ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমন্ডি রোডে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে উন্মত্ত জনতা। জেলায় জেলায় বঙ্গবন্ধুর মূর্তি-ম্যুরাল ভেঙে চলছে উল্লাস। কট্টরপন্থীদের রোষ আছড়ে পড়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও। নাম বদলে দেওয়া হয় মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামাঙ্কিত বিভিন্ন ছাত্রবাসের। এবার ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের ফরমান জারি করল ইউনুস সরকার। এর মধ্যে ১০টি বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত ছিল। বাকি তিনটি তাঁর পরিবারের নামে।
Advertisement
এদিকে, সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে ইউনুস সরকারের দ্বিচারিতা আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল। গত জুলাইতে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে সেদেশে সংখ্যালঘুদের দুর্গতির কথা স্বীকার করে নেওয়া হল রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্টে। পাশাপাশি, শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলন দমনে বলশক্তির অতিমাত্রায় প্রয়োগের বিষয়টিও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদন করেছে বিএনপি।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আইন মন্ত্রক থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত। বাকিগুলি শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে। পরিবর্তে স্থানীয় নাম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এক ধরনের হওয়ায় বিভ্রান্তি হচ্ছে। যে কারণে নাম পরিবর্তন করা হল।
সরকার যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের ‘চমক’ দিয়ে নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছে, তখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট তাদের অস্বস্তি বাড়াল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন হিন্দুদের পাশাপাশি আহমেদিয়া সম্প্রদায় ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের ভূমিপুত্রদের উপরেও নেমে এসেছিল নির্মম অত্যাচার। তাঁদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপশি আঘাত করা হয়েছিল উপাসনালয়গুলিতে। এলাকা ধরে ধরে হামলার খতিয়ান উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
গত জুলাইতে শুরু হওয়া হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে। যা থামেনি ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরেও। সেই সমস্ত রিপোর্টকে ‘গুজব’ বলে এড়িয়ে গেলেও মুখরক্ষায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের সত্য সন্ধানী দলকে। সেই দলের রিপোর্টেও মুখ রক্ষা হল না ইউনুসদের।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ