Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশ ভবন থেকে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান সরিয়ে নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশ ভবন থেকে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান সরিয়ে নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবনে এই মুহূর্তে সংস্কারের কাজ চলছে। তাই আজ, শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় সংহতি কেন্দ্রে করার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মধুর নয়। ওপার বাংলায় অস্থিরতার কারণে মুজিবুর রহমানের বাসভবন ও মূর্তি ধ্বংস অব্যাহত। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠানটি সরানো হয়েছে বলে মত অনেকের। যদিও বিশ্বভারতীর তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশ, দু’দেশের অর্থানুকুল্যে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি লাগোয়া বিশ্বভারতীর দু’বিঘা জমির উপর আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবন নির্মিত হয়। খরচ হয় প্রায় ২৫কোটি টাকা। ২০১৮সালের ২৫মে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসব উপলক্ষ্যে ভবনের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪১০০ বর্গমিটারের বাংলাদেশ ভবনে দু’টি সেমিনার হল, একটি বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। যেখানে দু’দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু মুজিবুরের নানা স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং দু’দেশের সম্পর্কের প্রচুর বই রয়েছে। এছাড়া একটি মিউজিয়াম, শিক্ষাকেন্দ্র,  ক্যাফেটারিয়া এবং ৪৫৩ আসনবিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভবনটির সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এখন সেই কাজেই ভবনটি বন্ধ রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তিতে ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবছরও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ২১ফেব্রুয়ারি  ইউনেস্কো-ঘোষিত  ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন করবে বিশ্বভারতী। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টায় আন্তর্জাতিক অতিথি নিবাসের সামনে থেকে অর্থাৎ পূরবী ফটক থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হবে। তবে তা বাংলাদেশ ভবনের পরিবর্তে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় সংহতি কেন্দ্রে পৌঁছবে। সেখানেই পরবর্তী অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে সান্ধ্যকালীন যে অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ভবনে হতো তা সংস্কারের কারণেই বাতিল করা হয়েছে।
যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, ওপার বাংলার ইতিহাসের ছবি, পুঁথি, ইতিহাস ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী মিউজিয়ামে অত্যন্ত যত্নে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মূলত, পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হওয়ার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত রূপ বাংলাদেশ ভবনের মিউজিয়ামে সযত্নে রক্ষিত রয়েছে। তবে দু’দেশের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে। তাই মিউজিয়ামের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক সামগ্রীগুলির নিরাপত্তায় ও নাশকতা এড়াতেই এবছর বাংলাদেশ ভবনে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বাংলাদেশ ভবনে যেভাবে অনুষ্ঠান করা হতো, সেই ধারা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন। এপ্রসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসা বিশ্বভারতীর পড়ুয়া অমৃতা সরকার ও রকি সরকার বলেন, সংস্কার তথা নির্মাণকাজ চলায় সেখানে অনুষ্ঠান করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে সন্ধ্যাবেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সেকারণে একটু মন খারাপ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ