Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়ম: ২২ নভেম্বর কাঁথির কলেজে যাবে তদন্ত কমিটি

বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়ম: ২২ নভেম্বর কাঁথির কলেজে যাবে তদন্ত কমিটি
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হাইকোর্টের নির্দেশে কাঁথি পিকে কলেজে বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত করছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। আগামী ২২নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি ফের কলেজে পৌঁছাবে। ওই সময় কলেজ পরিচালন কমিটির সকল সদস্য, নির্মাণের কাজে যুক্ত ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারদের হাজির থাকার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি ইস্যু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো কলেজের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দে তাঁদের প্রত্যেককে ইমেল করে ওই দিনে নির্ধারিত সময়ে কলেজে উপস্থিত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। কাঁথি লোকসভার বর্তমান সংসদ সদস্য ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীন বিল্ডিং নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২২সালে ১৮ফেব্রুয়ারি এনিয়ে কাঁথি থানায় এফআইআর হয়। কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস। যদিও তার কিছুদিনের মধ্যে হা‌ইকোর্ট সেই তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে পুলিসি তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২সালে ১১আগস্ট ফের হাইকোর্ট ওই মামলায় পুলিসি তদন্তে বাধা নেই বলে রায় দেয়। ওই রায়ের পর ফের কাঁথি থানার পুলিস তদন্ত শুরু করে। রিপোর্ট দেখার পর হাইকোর্ট ২১সেপ্টেম্বর ওই মামলায় জেলাশাসককে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে ৪নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেয়। ২০২২সালের নভেম্বর থেকে দু’বছর সময় কেটে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পদস্থ অফিসাররা দফায় দফায় কলেজে গিয়ে তদন্ত করেছেন। এরমধ্যে আদালত অবমাননা মামলাও দায়ের হয়। জেলাশাসককে ফের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলাশাসকের(জেলা পরিষদ) নেতৃত্বে একটি কমিটি তদন্ত করছে। আগামী ২২নভেম্বর ওই তদন্ত কমিটি নির্মাণ কাজে যুক্ত ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার এবং তৎকালীন পরিচালন কমিটির প্রত্যেকের মুখোমুখি হতে চায়। সেইমতো কলেজের অধ্যক্ষ তাঁদের চিঠি দিয়ে ওই সময়ে হাজির থাকার আবেদন জানিয়েছে।
Advertisement
২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজে বেশকিছু বিল্ডিং নির্মাণের কাজ হয়েছে। তারমধ্যে চারতলা গার্লস হস্টেল, চার তলা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিল্ডিং, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ও ক্লাসরুম এবং অধ্যাপকদের কোয়ার্টার রয়েছে। অভিযোগ, ওইসব বিল্ডিং নির্মাণের জন্য‌ পুরসভা থেকে কোনও প্ল্যান পাশ হয়নি। পুরসভার খাতায় এইসব বিল্ডিং নির্মাণের কোনও তথ্য নেই। বিল্ডিং নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা ছিল না বলে অভিযোগ। এভাবে প্রচুর সরকারি অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে মামলাকারীর অভিযোগ।
বিল্ডিং নির্মাণ নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২২সালে ২২সেপ্টেম্বর ঠিকাদার সংস্থাকে ওই নির্মাণকাজের জন্য এককালীন এক কোটি টাকার বিল পেমেন্ট করা হয়। তানিয়েও কলেজে হুলস্থূল বাধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে কলেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওইবছর ৩ডিসেম্বর কাঁথি শহরে সভায় এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানকার কলেজের বিল্ডিং নির্মাণে দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। এনিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন। 
কলেজের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দে বলেন, আগামী ২২নভেম্বর বিল্ডিং নির্মাণের কাজে যুক্ত ঠিকাদার এজেন্সি, ইঞ্জিনিয়ারদের কলেজে থাকার জন্য ইমেল মারফত চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের অবগত করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ