সংবাদদাতা বেলদা: লাইব্রেরি থেকে প্রায় তিন হাজার বই চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এক নাবালক। পুলিসি তদন্তে উঠে এল এই তথ্য। ধৃত ব্যবসায়ী আব্দুল আদুত আলি শাহকে জেরা করে পুলিস ওই নাবালকের সন্ধান পায়। তাকে মেদিনীপুরে জুভেনাইল বোর্ডে পেশ করলে বিচারক তাকে ডেবরার একটি হোমে রাখার নির্দেশ দেন। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সমস্ত বই। পুজোর ছুটিতে বেলদা থানার জাহালদা হাইস্কুল চত্বরে থাকা একটি সাধারণ পাঠাগার থেকে প্রায় তিন হাজার বই চুরি যায়। পুজোর ছুটির পর গত শনিবার লাইব্রেরি খুললে সেই চুরির কথা জানা যায়। এরপর বেলদা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিস তদন্তে নেমে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। তার গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া বইগুলি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ওই জাহালদা স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। দোকানে থাকা সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে রেখে শনাক্ত করা হয় ওই নাবালককে। এরপর তাকে তার বাড়ি থেকে ধরে বেলদা থানার অন্তর্গত জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ির পুলিস। পুজোর ছুটিতে বেশ কয়েক দফায় লাইব্রেরি থেকে বই বস্তায় ভরে করে ওই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়। জেরায় জানায়, পুজোয় আনন্দ করার নেশায় সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। দফায় দফায় সাইকেলে করে ২৬ বস্তা বই দু’সপ্তাহ ধরে লুকিয়ে ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেয় ওই নাবালক। আর তার বিনিময়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পায় সে। আর সেই টাকা নিয়ে পুজোয় দেদার খরচ করেছে ওই নাবালক। লাইব্রেরির ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক বিপ্লব মণ্ডল বলেন, এক নাবালক এই কান্ড ঘটাবে কখনও ভাবতে পারিনি। এদের কাছে বই বিক্রয় সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে। তবে পুলিসের তৎপরতায় চুরি যাওয়া বইগুলি উদ্ধার হয়েছে।



