সংবাদদাতা, বেলদা: সময়মতো ট্রেন না ধরলে বাড়ি ফেরা মুশকিল হয়ে পড়বে। সেজন্য ক্লাস থাকলেও তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপকদের একাংশ। এতে কলেজের পঠনপাঠন বিঘ্নিত হচ্ছে। বেলদা কলেজে এমনই অভিযোগ তুললেন অভিভাবকরা। অভিযোগ পেয়ে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ। বেলদা কলেজে এখন প্রায় ৬৫জন অধ্যাপক-অধ্যাপিকা কর্মরত রয়েছেন। যার মধ্যে কলকাতা সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা বেশকিছু অধ্যাপক রয়েছেন। অভিযোগ, এই অধ্যাপকদের একাংশ দৈনন্দিন বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াত করেন। সেজন্য তাঁরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে ট্রেন ধরার তাড়ায় থাকেন। বেলদা স্টেশন থেকে খড়্গপুরের দিকে যাওয়ার ট্রেন ২টো ২৪ মিনিটে। তারপরের ট্রেন থাকে ৪টে ১৯ মিনিটের ধৌলি এক্সপ্রেস। সেটা ধরতে না পারলে কলকাতা ফেরা দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। সেজন্য কলেজ ছুটির আগেই অধ্যাপকদের একাংশ বেরিয়ে যায়। আবার শনিবারও দুপুর ২টোর ট্রেন ধরার তাড়ায় থাকেন তাঁরা। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে। কখনও কখনও মাঝপথেই লেকচার থামিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপকরা।সোমবার এনিয়ে বেলদা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ জানান। তাঁদের দাবি, কলেজে ক্লাস করানোর থেকে এই অধ্যাপকদের বাড়ি ফেরার তাড়া বেশি থাকে। অভিভাবক পুলক মাইতি বলেন, অধ্যাপকরা রাজ্য সরকারের থেকে অনেক টাকা বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু পড়ানোর চেয়ে তাঁদের বাড়ি ফেরার দিকেই বেশি মন।অপর অভিভাবক রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অধ্যাপকরা সরকারের থেকে হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স পান। তা সত্ত্বেও বাড়ি থেকে ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা চলতে পারে না। কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি সঞ্জয় মাইতি বলেন, আমাদের কলেজ ন্যাকের বিচারে ‘এ প্লাস’ গ্রেড পেয়েছে। সেখানে অধ্যাপকদের একাংশের এই আচরণে আমরা পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছি। কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ চন্দ্রশেখর হাজরা বলেন, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আগামী দিনে যাতে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ওই অধ্যাপকদের অনুরোধ করা হবে। সেইসঙ্গে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনছি। আগামী দিনে এরকম ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



