নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শনিবার সকালে বালিবোঝাই ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রৌঢ়ার মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল রানিগঞ্জ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম চিন্তাদেবী(৫৭)। এদিন সকালে পূরণমল এলাকায় নাতির স্কুটিতে চেপে পুজো করতে যাচ্ছিলেন চিন্তাদেবী। বালির গাড়ি যাওয়ায় ওই রাস্তার অত্যন্ত বেহাল দশা। সেখানে পড়ে যাওয়ায় একটি বালিবোঝাই ডাম্পার তাঁকে পিষে দেয়। জনবহুল এলাকা দিয়ে বালির গাড়ি চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ক্ষোভ ছিল। এদিন দুর্ঘটনার জেরে সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে বালিবোঝাই ডাম্পারগুলির উপর। একের পর এক ডাম্পারে ভাঙচুর করা হয়। রাস্তায় দেহ ফেলে রেখে শুরু হয় আন্দোলন। যার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রানিসায়ের-অমৃতনগর রাস্তা স্তব্ধ হয়ে যায়। রানিগঞ্জ বাইপাস রাস্তায়ও যানজট হয়। এদিন আন্দোলন চলাকালীন এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, দুর্ঘটনার পরই বালির ডাম্পারের চালান দেখতে চাইলে দু’রকম কাগজ দেখানো হয়। দামোদর নদে ইসিএল যে বালি ব্লকের বরাত পেয়েছে সেখান থেকে বৈধভাবে বিভিন্ন কোলিয়ারিতে পরিবহণ করা হয়। কিন্তু এদিন দু’রকম চালান ধরা পড়ে। অভিযোগ, সরকারি চালানে কিউআর কোড স্ক্যান করলেই বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে বহু চালানেই তা হচ্ছে না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসিএলের বৈধ চালানের আড়ালে অবৈধ বালির কারবার চলছে। একটি বৈধ চালান নকল করে গাড়ির নম্বর বদলে একাধিক কাগজ তৈরি করা হচ্ছে। সেই বালি বিভিন্ন জায়গায় পাচার হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিসি(সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, বালিবোঝাই ডাম্পারের সঙ্গে দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দেহ রাস্তায় নামিয়ে রেখে অবরোধ চলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। নকল চালানের কোনও অভিযোগ এখনও আমার কাছে আসেনি। পূরণমল এলাকাটি আসানসোল পুরসভার ৩৭নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। রানিগঞ্জ থানা এলাকায় থাকা এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। বাইক, ছোট চারচাকা গাড়ি যাওয়ার রাস্তায় সারি দিয়ে বালির লরি, ডাম্পার ছুটছে। এনিয়ে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কাজ হয়নি। এমনকী, রাস্তা সংস্কার করলেও অতিরিক্ত ভারী গাড়ি যাতায়াতের জন্য ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। এনিয়ে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছিল। এদিন পুজো দিতে যাওয়ার পথে সেই রাস্তায় প্রৌঢ়ার মৃত্যুতে আগুনে ঘি পড়ে। ক্ষোভে একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ, ঘাতক ডাম্পারের চালক মদ্যপ ছিল। গাড়িতে কোনও খালাসিও ছিল না। তাই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাসিন্দাদের অবরোধ-বিক্ষোভের জেরে রানিগঞ্জে শোরগোল পড়ে। উপস্থিত হন রানিগঞ্জ থানার পুলিস, স্থানীয় কাউন্সিলার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রানিগঞ্জের শহর সভাপতি রূপেশ যাদব। যদিও ইসিএল বা বালি পরিবহণের দায়িত্বে থাকা কোনও লোকজন আসেননি। স্থানীয় বাসিন্দা সুবোধ যাদব বলেন, ওই মহিলা ১০হাজার টাকা পেনশন পেতেন। পরিবার তা থেকে বঞ্চিত হল। এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তারপরই নকল চালানের অভিযোগ তোলা হয়। তৃণমূল নেতা রূপেশ যাদব বলেন, আমরা একাধিকবার রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ভারী গাড়ি যাতায়াতের ফলে রাস্তা টেকসই হচ্ছে না। এদিন দেখা গিয়েছে দু’রকম চালান রয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি ইসিএলের বালির আড়ালে অবৈধভাবে পাচার করছেন।



