নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক বছরের ব্যবধানে বীরভূম জেলায় ব্ল্যাকস্পটের সংখ্যা তুলনামূলক কমেছে। তথ্যের হিসেবে বর্তমানে জেলায় মোট ২৯টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৩৭। জেলা পুলিসের তরফে দেওয়া তথ্য অনুসারে, ব্ল্যাকস্পটের সংখ্যা কমলেও বছর ভিত্তিক দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সেইসঙ্গে দুর্ঘটনায় জখম হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ঘটনায় জেলা পুলিস মহল যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিসের শীর্ষকর্তারা যথেষ্ট তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রয়োজন অনুসারে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় পুলিস মোতায়েন সহ গার্ডরেল কিংবা স্পিড ব্রেকার বসানোর কাজ চলছে। এছাড়াও কোনও ক্ষেত্রে বেহাল রাস্তার জেরে দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হচ্ছে। তবে, সুফল কতটা মিলবে তা অবশ্য সময় বলবে।
এবিষয়ে জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, পথ দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সাধ্যমতো পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে জনমানসে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে। জেলা পুলিসের তরফে পাওয়া তথ্যের হিসেবে এই মুহূর্তে বীরভূমজুড়ে ২৯টি ব্ল্যাকস্পট রয়েছে। তিন বছরের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর নিরিখে এই ব্ল্যাকস্পটগুলি চিহ্নিত করা হয়। সেই তথ্যের নিরিখে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে জেলায় মোট ৩৭টি ব্ল্যাকস্পট ছিল। সেই ৩৭টি ব্ল্যাকস্পটে মোট ২৫০টি দুর্ঘটনায় ৯৭জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে জেলায় ২৯টি ব্ল্যাকস্পটে মোট ১৮৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৭৫। গত বছরের তুলনায় যা তুলনামূলক কম।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার সদাইপুরের বাঁধেশ্বর ব্ল্যাকস্পটে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা যথেষ্ট। শেষ তিন বছরে ওই ব্ল্যাকস্পটে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মল্লারপুরের আম্মামোড়ের ব্ল্যাকস্পটেও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রামপুরহাটের মাঝখণ্ড ব্ল্যাকস্পটে ১০ জন দুর্ঘটনার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন। জেলায় ব্ল্যাকস্পটের নিরিখে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও বছরভিত্তিক সেই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগের। জেলা পুলিসের তরফে পাওয়া তথ্য অনুসারে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৫০৫টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৪ সালে জেলাজুড়ে মোট ৫১৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় জখম হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১। অন্যদিকে, ৫১৮টি দুর্ঘটনায় মোট ৫৩৬ জন জখম হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জেলা পুলিস পথ নিরাপত্তায় আরও বেশি করে জোর দিতে শুরু করেছে। এছাড়াও দুর্ঘটনা এড়াতে পথ নিরাপত্তায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস সহ সিভিক ভলান্টিয়রদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অকারণে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধ করা হয়েছে।