নয়াদিল্লি: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসই সার। প্রতিবেশী দেশগুলির উপর ইরানের আক্রমণ অব্যাহত। রবিবার সকালে কুয়েত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলা চালায় ইরানি সেনা। রবিবার অবশ্য নিজের পুরানো বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে যান প্রেসিডেন্ট। বলেন, শত্রুরা আমার কথা বুঝতে ভুল করেছে। আমাদের উপর হামলা হলে প্রত্যাঘাত করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না। আমাদের উপর যত বেশি চাপ দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রতিক্রিয়া তীব্র হবে। আমাদের দেশ ইরান কখনও মাথা নত করবে না।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এদিন রাজধানী শহর রিয়াধে অবস্থিত দূতাবাস, কূটনীতিকদের বাসভবনগুলিকে টার্গেট করেছিল ইরান। অন্তত ১৫টি ড্রোন আকাশেই ‘ইন্টারসেপ্ট’ করে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কুয়েতেও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা তেলের ট্যাংক সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টা করে ইরান। সেখানে ড্রোনের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স অন্ত তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে। যদিও ধ্বংস হয়ে যাওয়া ড্রোন ও মিসাইলের টুকরোর আঘাতে একাধিক অসামরিক ভবনের ক্ষতি হয়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, কুয়েত সিটির একটি বহুতল ভবন দাউদাউ করে জ্বলছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে কুয়েতের জাতীয় তেল সংস্থা জানিয়েছে, তারা আপাতত অপরিশোধিত তেল উত্তোলন বন্ধ রাখছে। কাতারেও নতুন করে হামলার খবর মিলেছে। বাহরিনে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোর আঘাতে একজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান। সেখানে একটি পানীয় জল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। শনিবার সকালে দুবাই বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়েছিল। এবার আকাশে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোর আঘাতে দুবাইয়ে এক পাকিস্তানি গাড়িচালকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই নিয়ে দুবাইয়ে চারজনের মৃত্যু হল। তাঁদের প্রত্যেকেই বিদেশি নাগরিক। নজিরবিহীনভাবে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে আসবে দেশ।
এদিকে, ইরানের উপর ইজরায়েলের হামলাও অব্যাহত। রাজধানী তেহরানে পাঁচটি তেলের ডিপোতে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ডিপোগুলিতে একের পর এক বিস্ফোরণ হচ্ছে। ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে গিয়েছে আকাশ। বহু দূর থেকেও আগুনের গোলা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ডিপো থেকে আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া তেলেও আগুন ধরে যায়। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তার মধ্যে দুজন ট্যাঙ্কার চালক। এই হামলার পর তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৃষ্টির সঙ্গে তেলের কণা ও ছাই মিশেই এমনটা হয়েছে। রাসায়নিক বৃষ্টি থেকে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে। ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এখনও পর্যন্ত ওই দেশে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর মধ্যে ৮৩ জন শিশু ও ৪২ জন মহিলা।