Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালো পতাকা বা জুতো ‘ব্যাকডেটেড’, পচা ডিম নিয়ে চর্চা চায়ের ঠেকেও

এক সময় প্রতিবাদের ভাষা ছিল কালো পতাকা। কখনও কালির বোতল। কালেভদ্রে জুতোও দেখা গিয়েছে কোথাও কোথাও।

কালো পতাকা বা জুতো ‘ব্যাকডেটেড’, পচা ডিম নিয়ে চর্চা চায়ের ঠেকেও
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এক সময় প্রতিবাদের ভাষা ছিল কালো পতাকা। কখনও কালির বোতল। কালেভদ্রে জুতোও দেখা গিয়েছে কোথাও কোথাও। তবে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক আবহে সেই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে ডিম। যা তৃণমূল নেতাদের কাছে ‘ভয় ও অপমানের’ আর এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তদন্তকারী সংস্থার দপ্তর, আদালত চত্বর কিংবা থানার সামনে জমছে ভিড়। ধৃত নেতাদের উদ্দেশে উঠছে ‘চোর চোর’ স্লোগান। সেই স্লোগানের মাঝেই উড়ে আসছে ডিম। কোথাও টাটকা, কোথাও আবার পচা। জনরোষ প্রকাশের হাতিয়ার হিসাবে ডিম এখন নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ছবি এতবার দেখা গিয়েছে যে, তা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন না কেউ। বরং রাজনৈতিক বিক্ষোভের এক পরিচিত অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ডিম। নেতাকে আদালতে তোলা হবে শুনলেই ভিড় জমছে সেখানে। সঙ্গে থাকছে ডিম। অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের একাংশকে আগে থেকেই ট্রে ভর্তি ডিম নিয়ে হাজির হতে দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও পচা ডিম জোগাড়ের চেষ্টাও হয়েছে।

Advertisement

রাজনীতির এই দৃশ্যই এখন পৌঁছে গিয়েছে বাজারের আড্ডায়। কারণ একই সময়ে চড়েছে ডিমের দাম। ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছে, কিছুদিন আগেও ৩০টি ডিমের একটি ট্রে ১৭০-১৮০ টাকায় মিলত। এখন সেই দাম ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই। আগে খুচরো বাজারে ডিম বিক্রি হত ৬ টাকায়। এখন তা সাত-সাড়ে সাত টাকা। ফলে বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে। আর সেখানেই শুরু হচ্ছে মস্করা। বারাসতের বড়বাজারের এক পাইকারি ডিম বিক্রেতা স্বপন হেঁসের কথায়, বাজারের ওঠানামাই দাম বৃদ্ধির কারণ। কিন্তু এখন ডিম কিনতে গেলে অনেকেই রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলছেন। মজা করছেন। আগে এক ট্রে ডিম কিনলে কেউ ফিরেও তাকাত না। এখন বেশি ডিম কিনলেই আশপাশে হাসাহাসি শুরু হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতা অভিজিৎ চক্রবর্তী বলছেন, ডিমেরও এখন রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। কারণ ডিম এখন আর শুধু রান্নাঘরের জিনিস নয়, যেভাবে ছোড়া হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের, তাতেই হয়ত দাম বাড়ছে। 
ডিমের দাম নির্ধারিত হয় উৎপাদন, জোগান, খাদ্যের খরচ, পরিবহণ ব্যয় সহ একাধিক কারণে। জনতার আড্ডা অর্থনীতির কঠিন সূত্র মেনে চলে না। একদিকে গ্রেপ্তারি, অন্যদিকে জনরোষ, এর মাঝখানে উড়ে যাচ্ছে ডিম। আর ঠিক এই সময়ই বাজারে বাড়ছে ডিমের দাম। দুই ছবিকে পাশাপাশি রেখেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঠাট্টা, নতুন নতুন মন্তব্য। সাধারণ মানুষের কথায়, ডিম এখন শুধু খাদ্যপণ্য নয়। সে রাজনৈতিক আলোচনার অংশও বটে! আদালত চত্বর থেকে বাজার— সর্বত্রই তার উপস্থিতি। সে কারণেই চায়ের কাপে ধোঁয়া উড়িয়ে এখন অনেকেই মজা করে বলছেন, বাংলার রাজনীতিতে ডিমের চাহিদা যে বেড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ