Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আগেও হামলা চালিয়েছে বিএলএ

আগেও হামলা চালিয়েছে বিএলএ
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে ফের সংবাদ শিরোনামে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। মঙ্গলবারের অপারেশনে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছে বালোচ বিদ্রোহীদের মাজিদ ব্রিগেড। মূলত আত্মঘাতী হামলায় পারদর্শী এই গোষ্ঠীর সদস্যরা ওই ট্রেনের যাত্রীদের পণবন্দি করে রেখেছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, এর আগেও একাধিকবার পাকিস্তানি সেনা, সরকারি দপ্তর-আধিকারিকদের নিশানা করেছে বিএলএ। বর্তমানে বালুচিস্তানে একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী রয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে বিএলএ’র নামই বারবার উঠে এসেছে। তাদের দাবি, বালুচিস্তানকে স্বাধীন ঘোষণা করতে হবে। যা কোনওভাবেই মানতে নারাজ পাকিস্তান। গুমখুন, হত্যা, ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বারবার সেই দাবিকে বন্ধ করতে চেয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু, যতবারই সেই চেষ্টা হয়েছে পাল্টা আঘাত হেনেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশ হলেও বর্তমানে বালুচিস্তানজুড়ে ব্যাপক বেকারত্ব, দারিদ্র। এরমধ্যে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে চীন-পাক অর্থনৈতিক করিডর। পাকিস্তানের গদর বন্দরে ওই প্রকল্পে কাজ চললেও বালোচরা সেখানে কাজ পাচ্ছেন না। পাঞ্জাব, সিন্ধ, এমনকী চীন থেকেও কর্মী আনা হচ্ছে। এই বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছেন বালোচরা। কিন্তু, লাভ হয়নি। তাতেই প্রশাসনের সঙ্গে সশস্ত্র-সংঘাত আরও বেড়েছে।   

Advertisement

১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার সময় থেকেই স্বশাসন চাইছে বালোচরাও। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোর সরকার ‘গায়ের জোরে’ জাতীয় আওয়ামি পার্টির প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেয়। সেবার স্থানীয়দের উপর পাক সেনা অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। মাজিদ লনগোভ সিনিয়র ও মাদির লনগোভ জুনিয়ারের মৃত্যুর পর নয়া মাত্রা পায় পাক বিরোধী আন্দোলন। বিএলএ নেতা আসলাম আচু একটি আত্মঘাতী স্কোয়াড তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। তার নাম দেওয়া হয় ‘মাজিদ’। ২০১১ সালে ৩০ ডিসেম্বর প্রথম আত্মঘাতী হামলা চালায় এই সংগঠন। তাতে কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৮ সাল থেকে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। তারপর থেকে কখনও চীনা আধিকারিক, কনস্যুলেট, কখনও আবার হোটেল, করাচিতে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ, বিমানবন্দরকে নিশানা করেছিল তারা। এদিনের অপারেশনে বিএলএ’র ফতেহ স্কোয়াড, স্পেশাল ট্যাকটিকাল অপারেশন স্কোয়াড (এসটিওএস)-ও অংশ নিয়েছে। সূত্রের দাবি, বালুচিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় গেরিলা কায়দায় পাক সেনাকে একাধিকবার বিপাকে  ফেলেছে এই ফতেহ স্কোয়াড। অন্যদিকে, এসটিওএস মূলত সংগঠনের গুপ্তচর সংস্থা। গোপন তথ্য এককাট্টা করা, নজরদারি চালানো ও গুপ্তহত্যার দায়িত্বে রয়েছে এই ব্রিগেড। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ