Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা শস্যবিমায় গত বছরের থেকে খরিফে দেড় লক্ষেরও বেশি আবেদন

বাংলা শস্যবিমায় গত বছরের থেকে খরিফে দেড় লক্ষেরও বেশি আবেদন
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাংলার শস্যবিমা যোজনায় বাঁকুড়ায় গতবারের তুলনায় এবারের খরিফ মরশুমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার আবেদন বেশি জমা পড়েছে। গতবার জেলার ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৪৭ জন চাষি আমন ও আউশ ধানে বিমা করিয়েছিলেন। এবার মোট ৫ লক্ষ ৪ হাজার ৩৫ জন ধান চাষি বিমার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই জমা পড়া আবেদনপত্র জেলা কৃষিদপ্তর রাজ্যের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করে দিয়েছে। তারমধ্যে রাজ্য সরকার প্রায় ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার আবেদনপত্র অনুমোদন করে দিয়েছে। বাকি আবেদনপত্রেও দ্রুত সিলমোহর দেওয়া হবে বলে জেলা কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তবে চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও চাষের এলাকা তেমন বাড়েনি। গতবার ২ লক্ষ ৫ হাজার হেক্টর এলাকা জমির জন্য জেলার চাষিরা বিমা করিয়েছিলেন। এবার তা সামান্য বেড়ে ২ লক্ষ ৮ হাজার হেক্টর হয়েছে। 
Advertisement
বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, জমা পড়া আবেদনপত্র রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়ে গিয়েছে। জমা পড়া সব আবেদনপত্রেই রাজ্য অনুমোদন দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ যাতে চাষিরা পান তা দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবার থেকে আলুর জন্য বিমার প্রিমিয়াম চাষিদের দিতে হচ্ছে না। আলু চাষের বিমারও আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। আপাতত তা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে দপ্তর ঘোষণা করেছে। তবে ওই সময়সীমা বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। ফলে এখনও যাঁরা রবি শস্যের বিমার জন্য আবেদন করেননি, তাঁদের তা দ্রুত করতে বলা হচ্ছে। বিমা কোম্পানির লোকজন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, হাটে-বাজারে মাইকিং করে প্রচার চালাচ্ছে। চাষিদের কাছ থেকে সরাসরিও আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।   
উল্লেখ্য, আগে চাষিদের জন্য বিমার কোনও সুযোগ ছিল না। তখন প্রকৃতির মারে চাষিরা কার্যত অসহায় ছিলেন। খরা, বন্যা সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কার্যত ‘পাকা ধানে মই’ দিত। পরবর্তীকালে বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবনাচিন্তা করে। বাম আমলে ব্যাঙ্ক বা সমবায় সমিতি থেকে কৃষি ঋণ নিলে চাষিরা সরাসরি বিমার আওতায় চলে আসতেন। তখন চাষিদের দেওয়া ঋণ থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ অর্থ কেটে নেওয়া হতো। তৃণমূল সরকার চাষিদের বিমার প্রিমিয়ামের ভার লাঘব করার উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে সিংহভাগ ফসলের ক্ষেত্রে সরকার বিমার প্রিমিয়াম দিয়ে থাকে। তবে তারজন্য চাষিদের পৃথকভাবে ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিতে হয়। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে একাধিক নিম্নচাপের জেরে এরাজ্যে বহু জমির ফসল নষ্ট হয়। পরপর নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিদের সর্বনাশ ডেকে আনে। রোগ-পোকার আক্রমণেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে কীটনাশক সেভাবে কাজ করছে না বলেও বহু চাষির অভিযোগ। সার সহ অন্যান্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির জেরে চাষের খরচও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঋণ মকুবের দাবিতেও চাষিরা সরব হয়েছেন। রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলার শস্যবিমা যোজনা চাষিদের অনেকটা সুরাহা দিচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ