Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে পার্ক, খেলার মাঠই নিশ্চিহ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পরও হুঁশ নেই কোনও মহলের

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে পার্ক, খেলার মাঠই নিশ্চিহ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পরও হুঁশ নেই কোনও মহলের
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বীরভূম জেলা থেকে ব্যাপক হারে বালি পাচার হওয়ায় সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর অধিকাংশ নদনদী থেকে বেআইনি বালি তোলায় রাশ টানা গেলেও ব্যতিক্রম মল্লারপুর থানার শিউলিয়া গ্রাম। সেখানে একশো দিনের কাজে তৈরি দ্বারকা নদের বাঁধই কেটে ফেলেছে মাফিয়ারা। নদের গর্ভ থেকে ও পাড় কেটে বালি তুলে শহর ও শহরতলিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। অভিযোগ, শুধু নদ থেকে বালি তোলা হচ্ছে তাই নয়, কেটে ফেলা হচ্ছে নদের পাড়ও। যার ফলে রেকর্ডেড খেলার মাঠ নদের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। বরং আরও বেপরেয়া হয়ে উঠছে মাফিয়ারা। 
Advertisement
বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিউলিয়া, ডুমরা, নামো ডুমরা, মেহেরপুর সহ একাধিক গ্রাম দ্বারকা নদের পাড়ে অবস্থিত। সেখানে নিত্যদিন ভোরের দিকে নদের গর্ভ ও পাড় কেটে চলছে বালি চুরি। যার জেরে বিপন্ন হয়ে পড়ছে শিউলিয়া গ্রাম। পাড় কেটে ফেলার ফলে নদ এগিয়ে আসছে। উধাও হয়ে যাচ্ছে নদের পাড়ের যাতায়াতের রাস্তা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন ভোর চারটে থেকে রাত পর্যন্ত এখানে অবৈধভাবে বালি তোলা চলছে। গ্রামের ভিতরের সঙ্কীর্ণ রাস্তা দিয়ে অনবরত চলছে বালির গাড়ি। এই রাস্তার উপর একটি প্রাইমারি স্কুল, জুনিয়র হাইস্কুল, পঞ্চায়েত অফিস, দু’টি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র, সহ প্রসিদ্ধ পীরবাবার মাজার রয়েছে। প্রায় দশটি গ্রামের স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ এই গ্রামের রাস্তা দিয়ে নিত্য যাতায়াত করেন। বালির গাড়ি চলায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ২০২১ সালে একশো দিনের কাজের টাকায় নদের বাঁধ সংস্কার হয়েছিল। সেই বাঁধ কেটে বালি তোলায় বিপন্ন হয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি। প্রশাসন সব জেনেও চুপ। তাঁদের দাবি, এলাকার প্রভাবশালী কিছু লোকেরও মদত আছে এই বালি চুরিতে। বর্ষায় নদের বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় এখন থেকেই ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের। কিন্তু বালি মাফিয়াদের ভয়ে কেউই মুখে খুলতে সাহস দেখাচ্ছে না। গ্রামবাসীরা বলেন, এমনিতেই বর্ষায় নদের বাঁধ উপচে গ্রামে জল ঢোকে। তখন আমাদের স্কুলে আশ্রয় নিতে হয়। এখন যেভাবে পাড় কাটা হচ্ছে তাতে বর্ষায় বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। এই বাঁধের উপর দিয়েই কবরস্থান যাওয়ার রাস্তা। বাঁধ কাটায় রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে, মৃতদেহ নিয়ে যেতে অসুবিধে হবে। পুলিসের গাড়ি ঢুকবে সেই উপায়ও নেই। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে মাফিয়ারা। তবে প্রধান রাস্তায় অবৈধ বালি বোঝাই যান আটক করার পাশাপাশি কেস দিচ্ছে পুলিস। বুধধার দু’টি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটকে কেস দিয়েছে পুলিস। কিন্তু তারপরও এদিন যথারীতি বালি তোলা চলেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।  
বিএলএলআরও অভিজিৎ রায় বলেন, দিন পনেরা আগে ওখানে অভিযানে যাওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনও খবর পাইনি। আমরা দেখছি। অন্যদিকে ডিএলএলআরও অসীম পাল বলেন, আমি জেলার বাইরে রয়েছি। বিএলএলআরওকে বিষয়টি দেখতে বলছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ