Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি চুরি রোধ করে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রশাসনের, ২৬টি অবৈধ খাদান বৈধ করতে সুপারিশ

বালি চুরি রোধ করে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রশাসনের, ২৬টি অবৈধ খাদান বৈধ করতে সুপারিশ
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বালি চুরি রুখতে অভিনব পন্থা খুঁজে বের করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বালি মাফিয়াদের পছন্দের তালিকায় থাকা ২৬টি এলাকা চিহ্নিত করে বৈধ বালি খাদানের জন্য রাজ্যে সুপারিশ করা হল। ওইসব জায়গায় বালি তোলার বৈধতা দিলেই মাফিয়াদের দাপট কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে হলদি, রূপনারায়ণ প্রভৃতি নদীতে মোট ২৬টি বালি খাদান চিহ্নিত করে অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই জেলায় সরকারি অনুমতি নিয়ে মাত্র তিনটি ঘাট থেকে বালি তোলা হয়। বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি জেলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। তাই রাজস্ব বাড়াতে বালি খাদানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাতে চুরি কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
Advertisement
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, আমাদের জেলায় মাত্র তিনটি বৈধ বালি খাদান চলছে। আরও ২৬টি নতুন খাদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কোলাঘাট, নন্দকুমার, মহিষাদল,  চণ্ডীপুর, ময়না সহ পূর্ব মেদিনীপুরে বিভিন্ন থানা এলাকায় হামেশাই বালি চুরির অভিযোগ ওঠে। নন্দকুমার, চণ্ডীপুরের ব্লক ভূমি অফিসাররা প্রায়ই অভিযান চালিয়ে থানায় এফআইআর করেন। নরঘাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হলদি নদীর দু’দিকে দেদার বালি চুরি হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও কংসাবতী নদীর দু’দিকে নন্দকুমার এবং ময়না থানা এলাকা থেকে দেদার বালি তোলা হয়। বর্ষার মরশুমে নদী থেকে বালি ও মাটি কাটার উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা থাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালি তোলা হয়। এবার ব্যান পিরিয়ড চলাকালীন কোনও জায়গা থেকে বালি তোলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও, থানার ওসি এবং ব্লক ভূমি অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। 
সোমবার রাজ্যের ভূমি দপ্তর, মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও পুলিসের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল মিটিং হয়। সেখানে বালি থেকে রেভিনিউ আদায় এবং বালি চুরি আটকানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে মাত্র তিনটি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। এই সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ২৬টি জায়গায় বৈধ বালিখাদানের জন্য রাজ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। চণ্ডীপুর, নন্দকুমার, সুতাহাটা, হলদিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় ওইসব ঘাটের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পৌঁছেছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন বৈধ বালি খাদানের লিজ দিতে ই-অকশন ডাকে। দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে ওই নিলামে অংশ নেওয়া হয়। কোটি টাকা দর ওঠে। এছাড়াও গাড়ি প্রতি রেভিনিউ আদায় করা হয়। এর ফলে বালি মহার্ঘ্য হয়ে ওঠেছে। আর বালি মহার্ঘ্য হতেই বালি চুরি বেড়েছে। দিনরাত নদীর পাড় থেকে বালি তুলে পাচার হচ্ছে। বৈধ ঘাটের সংখ্যা বাড়লে চুরিতে অনেকটাই রাশ টানা যাবে বলে জেলা প্রশাসন মনে করছে।
সম্পর্কিত সংবাদ