Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় ব্যবসা করতে এনবিএফসি সংস্থাগুলিকে  ডিরেক্টরেটে নাম লেখাতে হবে, সিদ্ধান্ত নবান্নের

বাংলায় ব্যবসা করতে এনবিএফসি সংস্থাগুলিকে  ডিরেক্টরেটে নাম লেখাতে হবে, সিদ্ধান্ত নবান্নের
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
কলকাতা: ভুঁইফোড় অর্থলগ্নি সংস্থা আটকাতে কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থার উপর ভরসা করছে না বাংলা। চিটফান্ড কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কড়া হচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্টান (এনবিএফসি) রাজ্যে অফিস খুললেই তাদের ঠিকুজি-কোষ্ঠী নথিভুক্ত করতে হবে ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্সেসের (ডিইও) কাছে। তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা ডেটা ভাণ্ডার, যাতে কোম্পানি ঝাঁপ বন্ধ করলে বা আমানতকারীদের টাকা ফেরত না দিলে ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং বাজেয়াপ্ত করা যায় কোম্পানির সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। 
Advertisement
২০১৩ সালে সারদা, রোজভ্যালি সহ কয়েকটি চিটফান্ড কোম্পানির কেলেঙ্কারি সামনে আসে। প্রতারিত হন কয়েক কোটি আমানতকারী। অভিযোগ—সেবি, আরবিআইয়ের অনুমতি ছাড়াই বাজার থেকে তারা টাকা তুলেছিল। তদন্তে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্র নিজের ঘাড় থেকে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে অভিযোগ করে যে, রাজ্য প্রশাসন এই সমস্ত সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি। সেই কারণেই চিটফান্ড সংস্থাগুলির রমরমা হয়েছিল।
এনবিএফসি কোম্পানিগুলি সেবি বা আরবিআইয়ের নিয়ম মেনে টাকা তুলছে কি না তা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়ামক সংস্থার। কিন্তু তাদের একটা বড় অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে। তাই কেন্দ্রের উপর আর ভরসা করতে রাজি নয় রাজ্য। দিল্লির মতো আলাদা একটি নিয়ামক সংস্থা করতে চাইছিল তারা। সেই কারণে ডিরেক্টরেট অব অফেন্সেসকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে নবান্ন।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, অর্থনৈতিক অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ এই শাখা আরওসি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সেবি সহ যে-সমস্ত এজেন্সি এনবিএফসিকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয় সেখান থেকে তথ্য জোগাড়ের কাজ শুরু করেছে। ওই কোম্পানিগুলির হেড অফিস বা শাখা কলকাতা তথা রাজ্যের কোথায় কোথায় রয়েছে, রাজ্যের ডেটাবেসে সেগুলি থাকবে। ডিইওর তরফে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলিকে কেবল কেন্দ্রীয় এজেন্সির ছাড়পত্র নিলেই হবে না, এখানে ব্যবসা করলে রাজ্যের কাছেও নাম নথিভুক্ত করতে হবে। নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কোম্পানির ডিরেক্টর কারা রয়েছেন, তাঁদের ঠিকানা কী, কতজন আমানতকারী ও এজেন্ট রয়েছেন, আমানতকারীদের কাছ থেকে কী শর্তে কত টাকা তোলা হয়েছে, তাঁদের টাকা ফেরানোর জন্য পরিকল্পনা কী রয়েছে, চার্ডার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কারা রয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ ব্যালান্স শিটের হিসেবসহ সমস্ত নথি তিনমাস অন্তর আপডেট করতে হবে। কোন কোন এনবিএফসি রাজ্যে শাখা বা হেড অফিস খোলার পরেও নাম নথিভুক্ত করল না, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত ডেটার ভিত্তিতে ডিইও সেই সম্পর্কেও নজরদারি চালাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে যাবে সতর্কবার্তা। তারপরেও যদি কেউ উদ্যেগ না নেয় তাহলে জরিমানা থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ