Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা আবাসের বাড়ি পাচ্ছে ৭০ হাজার পরিবার, জেলায় সাত হাজারের নাম বাদ

বাংলা আবাসের বাড়ি পাচ্ছে ৭০ হাজার পরিবার, জেলায় সাত হাজারের নাম বাদ
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: সুপার চেকিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। জলপাইগুড়ি জেলায় বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি পেতে চলেছে ৭০ হাজার পরিবার। যোগ্যরাই যাতে এই প্রকল্পে সরকারি ঘর পান, তা খতিয়ে দেখতে গোটা জেলায় নামানো হয়েছিল প্রায় আড়াইশোটি সমীক্ষক দল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় খসড়া তালিকা। এরপর শুরু হয় ‘সুপার চেকিং’। যাচাই পর্বে সাত হাজারের মতো নাম আবাসের তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর।  
Advertisement
বাংলা আবাস প্রকল্পে জেলায় মোট যে উপভোক্তা রয়েছেন, তাঁদের ১৫ শতাংশের কাছে পৌঁছয় ব্লকের পক্ষ থেকে সুপার চেকিংয়ের টিম। মহকুমা প্রশাসনের তরফে সুপার চেকিং চালানো হয় ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। কিন্তু তারপরও কোথাও কোনও ‘ভুল’ থেকে গেল কি না তা খতিয়ে দেখতে চূড়ান্ত পর্যায়ে ২ শতাংশ বাড়িতে সুপার চেকিং চালায় জেলা প্রশাসনের বিশেষ টিম। তারই ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। 
বৃহস্পতিবার আবাস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) তেজস্বী রানা বলেন, গোটা জেলাতেই আমরা অত্যন্ত মসৃণভাবে আবাসের তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে আনতে পেরেছি। ৭০ হাজার উপভোক্তা আবাসের ঘর পেতে চলেছেন জলপাইগুড়ি জেলায়। 
২০১৮ সালে যে সমীক্ষা হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই আবাসের তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালে একবার সমীক্ষা চালানো হয়। সেসময় প্রায় ২০ শতাংশ নাম বাদ যায়। আর এবার বাদ গিয়েছে মোট উপভোক্তার প্রায় ১০ শতাংশ নাম। সুপার চেকিংয়ে তিন শতাংশের মতো নামের ক্ষেত্রে কিছুটা ধন্দ দেখা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কোনও একটি পরিবারের যে ঘর রয়েছে, তার তিনদিক পাকা থাকলেও একদিকের দেওয়াল কাঁচা। অথবা দু’দিকের দেওয়ালে ইটের গাঁথনি থাকলেও অন্য দু’দিকে টিনের বেড়া দেওয়া। এসব ক্ষেত্রে সমীক্ষকদের একটি অংশ ওই উপভোক্তাকে ‘যোগ্য’-র তালিকায় রেখেছে। কিন্তু অন্য সমীক্ষক দল তাঁকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, এ ধরনের যে ক’টি ঘটনা ঘটেছে, বিডিওদের বলা হয়েছে, সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে। বিডিও’র রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই ওই উপভোক্তাদের নাম আবাসের চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত। ২৮ নভেম্বরের মধ্যে জেলাশাসকের কার্যালয়ের পাশাপাশি বিডিও অফিস এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে ওই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। তালিকায় থাকা কোনও নাম নিয়ে যদি কারও আপত্তি থেকে থাকে, ২৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেব্যাপারে প্রশাসনের কাছে জানানো যাবে। নতুবা ৯-১০ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রামসভায় বৈঠক ডেকে ওই তালিকা পাশ করিয়ে নেওয়া হবে। তারপর রাজ্য থেকে অর্থ বরাদ্দ পেলেই তা উপভোক্তাদের দেওয়া শুরু হয়ে যাবে। 
কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অভিযোগ ছাড়া মোটের উপর শান্তিতেই আবাসের তালিকা তৈরির কাজ হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, কিছু নামের তালিকা জমা পড়েছে, নতুন করে সমীক্ষার নির্দেশ এলে সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ