নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমন: মানবিকতার আরও এক নজির গড়ল রাজ্য সরকার। এতদিন যাঁদের ঘর ছিল না তাঁদের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য। এবার যাঁদের জমি নেই তাঁদের পাট্টা দেবে রাজ্য। এমনকী, সেই জমিতে বাড়িও করে দেবে সরকার। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে তাঁরা এই সুবিধা পাবে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৪৯৬টি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসছে। ইতিমধ্যে ৮২টি পাট্টা জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রয়েছেন অথচ নিজস্ব জমি নেই, তাঁদের পাট্টা দেওয়া হবে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সুপার চেকিং চলছে। যাঁদের পাকাবাড়ি নেই তাঁরাই এই প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত হচ্ছে। যাঁরা বাড়ি পাওয়ার উপযুক্ত নয় তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা তালিকা ধরে সমীক্ষার কাজ করছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীক্ষার পর বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকা ২৭ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্লক, এসডিও এবং ডিএম অফিসে টাঙানো হবে। জেলার ওয়েবসাইটেও তালিকা দেওয়া হবে। সেই তালিকা দেখে কারও কোনও আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকরা সেই নাম ধরে ফের সমীক্ষা করবেন। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই তালিকা গ্রামসভায় পাঠানো হবে। সেখানেও গ্রামবাসীরা আপত্তির কথা জানাতে পারবেন। ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা ব্লক কমিটি অনুমোদন দেবে। ১১ডিসেম্বরের মধ্যে সেই তালিকা জেলাস্তরের কমিটি খতিয়ে দেখবে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার পর ১৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে ভূমিহীনদেরও পাট্টা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। প্রশাসন জানিয়েছে, বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি জমিতে বসবাস করছেন। তাঁরা ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে কোনও রকমে থাকেন। সেই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে পাট্টা দেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, আমাদের সরকারই এমন মানবিক হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার গরিব মানুষদের বাড়ি তৈরির টাকা আটকে রেখেছে। তারা ভেবেছিল এভাবে বাংলার মানুষকে শায়েস্তা করা যাবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বাদা মানুষের পাশে দাঁড়ান। যাঁদের জমি নেই তাঁদেরও পাট্টা দিয়ে বাড়ি করে দেওয়া হবে। অন্য কোনও রাজ্যে এমনটা নেই। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কোন এলকায় কতটা খাস জমি রয়েছে সেই রেকর্ড জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। ভূমিহীনদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরাজ্যের বাসিন্দারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অনেকের গ্রামে বাড়ি থাকে। তারপরও তারা সরকারি জমি দখল করে বসবাস করে। সেই পরিবারগুলিকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। যাঁদের কোথাও বাড়ি নেই তাঁদেরকেই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। এক আধিকারিক বলেন, ভূমিহীনদের পাট্টা দেওয়ার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে হবে। বহু পরিবার উপকৃত হবেন। তালিকা সুপার চেকিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা হবে।



