Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিক্ষুব্ধদের মেনুতে চিকেন, অফিসিয়াল গোষ্ঠীর মাটন, পিকনিক নিয়েও বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

বিক্ষুব্ধদের মেনুতে চিকেন, অফিসিয়াল গোষ্ঠীর মাটন, পিকনিক নিয়েও বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পিকনিকেও বিজেপিতে বিভাজন! একই দিনে বিবদমান দুই গোষ্ঠীর পৃথক পিকনিক। বিক্ষুব্ধদের পাতে পড়ল চিকেন বা মুরগির মাংস। আর অফিসিয়াল গোষ্ঠী কব্জি ডুবিয়ে খেল মটন বা পাঁঠার মাংস। রামপুরহাটে বিজেপির এই বিভাজনের ছবি দেখে বিরোধীদের কটাক্ষ—‘বাংলায় গেরুয়া ক্রমেই ফিকে হওয়ার পিছনে ওদের এই গোষ্ঠী বিভাজনও বড় কারণ।’ তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, যাঁরা একটু বেশি তোলা আদায় করতে পেরেছেন, তাঁরা পাঁঠার মাংস খাচ্ছেন। যাঁরা কম আদায় করেছেন তাঁদের পাতে চিকেন। জানি না মানুষ কিভাবে নেবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, রামপুরহাট বিধানসভায় ওরা কিছু করতে পারবে না।’   
Advertisement
জানা গিয়েছে, বুধবার বিজেপির এক গোষ্ঠী তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় রামপুরহাটের চিলা ব্রিজের কাছে বনভোজনের আয়োজন করে। আর এক গোষ্ঠী রামপুরহাটেরই বুঙ্কেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন মাঠে। পৃথক দু’টি পিকনিককে কেন্দ্র করে সামনে এল রামপুরহাট বিধানসভার গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। স্বভাবতই জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে বিজেপিরই অন্দরে। 
বীরভূম বিজেপির অর্ন্তকলহ নতুন কিছু নয়। এর আগে জেলা কার্যালয়েও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পুরনো কার্যকর্তারা। চলেছে ধাক্কাধাক্কি। গত লোকসভা ভোটের সময় সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। দলের একাংশ নিষ্ক্রিয় থাকে। যার ফলস্বরুপ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের অনেকেই বিরূপ মন্তব্য পোষ্ট করছেন। যা নিয়ে বার বার অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে জেলা বিজেপির অফিসিয়াল গোষ্ঠীর নেতাদের। সদস্যতা অভিযানেও তাঁদের মতবিরোধ সামনে এসেছে। এবার পিকনিক ঘিরেও শাকদলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়ল। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট বিধানসভার কার্যকর্তাদের নিয়ে পিকনিকের ডাক দেয় বিজেপি নেতারা। সেই মতো এদিন তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তার ধারে রামপুরহাটের চিলা মাঠে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল সহ রাজ্য ও জেলাস্তরের বেশ কয়েকজন পদাধিকারী। তাঁদের দাবি, এই আয়োজনে অংশ নেয় রামপুরহাট বিধানসভার প্রায় তিনশো কার্যকর্তা থেকে সক্রিয় কর্মী। খেলার আয়োজন থেকে পুরস্কার বিতরণ সবই চলে। দুপুরের আয়োজনে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, পাঁঠার মাংস, মিষ্টি, মুখসুদ্ধি। 
কিছুটা দূরে রামপুরহাটের বুঙ্কেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন মাঠে একইভাবে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে পিকনিকের আয়োজন করে দলেরই বিক্ষুব্ধরা। তাতে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক জনপ্রতিনিধি ছাড়াও প্রায় আড়াইশো জন বিজেপির কার্যকর্তা ও সক্রিয় কর্মী অংশ নেন। আমন্ত্রিত হিসাবে ছিলেন মুরারই বিধানসভার গতবারের প্রার্থী  দেবাশিস রায় সহ অনেকে। সেখানে অবশ্য ভাত, সবজি ও মুরগির মাংসের আয়োজন করা হয়েছিল। 
বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তথা বীরভূম সাংগঠনিক জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য মুকুল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পিকনিকের জন্য আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। পুরনো কার্যকর্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাছাড়া আমাদের পিকনিকের বিষয়টি অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’ এরপরেই অফিসিয়াল গোষ্ঠীর পাঁঠার মাংস খাওয়া নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘আমরা তো আর জেলার এক সুপরিচিত পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলা নিই না। আমরা সকলে মিলে চাঁদা দিয়ে এই আয়োজন করেছি। ফলে, মুরগির মাংসই আমাদের কাছে যথেষ্ট।’
অন্যদিকে ধ্রুব সাহা বলেন, ‘মুকুল মুখোপাধ্যায়রা পারিবারিক পিকনিক করছেন। যেটা ওঁরা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। আর ওঁরা কী বলছেন জানি না। আমি তো রামপুরহাটের নেতা নই। যাঁদের ডাকার দায়িত্ব তাঁরা ওদের জানিয়েছিলেন। আমাকে এঁরা ডেকেছেন বলে এসেছি। ওঁরা ডাকলে ওঁদের কাছেও যেতাম। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’ মুকুলবাবু পাল্টা বলেন, ‘পারিবারিক পিকনিক হলে দলীয় পতাকা কেন ব্যবহার করব। আমাদের সঙ্গে অনেক অ্যাক্টিভ মেম্বার ছিলেন।’
সম্পর্কিত সংবাদ