Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বুকের অসহ্য যন্ত্রণা, যুবকের আত্মহত্যা, ভরতপুরে চাঞ্চল্য

বুকের অসহ্য যন্ত্রণা, যুবকের আত্মহত্যা, ভরতপুরে চাঞ্চল্য
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: একটি অনলাইন বিপণি সংস্থা থেকে নিজের প্রয়োজনীয় পণ্য ওর্ডার করেছিলেন যুবক। সময়মতো ডেলিভারি বয় পণ্য নিয়ে হাজির হয়ে যান ঘরের দুয়ারে। কিন্তু সেই ডেলিভারি আর গ্রহণ করা হল না যুবকের। ডেলিভারি বয় ডাকাডাকি করেও আর সাড়া পায়নি যুবকের। প্রতিবেশীরা এসে যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিমল মাঝি(৩০) নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালের ওই ঘটনাটি ঘটেছে ভরতপুর থানার মাঝিপাড়া এলাকায়। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিস হাতে লেখা একটি সুইসাইডাল নোটও উদ্ধার করেছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সুইসাইডালে নোট লেখা রয়েছে, বাবা-মা তোমরা ভালো থেকো। আমি আমার বুকের ব্যথা আর সহ্য করতে না পেরে এই রাস্তা বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক গ্রামের একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন। এদিকে কয়েকমাস ধরে তিনি বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। এমনকী, বৃহস্পতিবারও তিনি এক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। এমন অবস্থায় এদিন সকালে একটি অনলাইন বিপণি সংস্থার ডেলিভারি বয় পরিমলবাবুকে ফোন করে একটি পণ্য ডেলিভারি দিতে আসবেন বলে জানান। সেই মতো পরিমলবাবু তাঁকে ডেলিভারি দিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বাড়িতে আসার পর যুবকের মোবাইল সুইচ বন্ধ বলে। এরপর যুবকের বাড়িতে ডেলিভারি বয় হাঁকডাক শুরু করেন। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর দরজা বন্ধ ঘরের জানালা ভেঙে প্রতিবেশীরা ভিতরে ঢোকেন। সেইসময় দেখা যায়, ছাদের একটি লোহার হুকে যুবক গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতাল রেফার করা হলে রাস্তাতেই মারা যান। যুবকের মা ক্ষেন্তি মাঝি বলেন, ছেলে চারমাস ধরে বুকের ব্যথায় ভুগছিল। এদিন ১০ মিনিটের জন্য ছেলেকে ছেড়ে পুকুরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে সাড়া না পেয়ে জানালা ভাঙা হয়। এরপর ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ