Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় টিকাকরণ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বাকি থাকা পারিশ্রমিক না মেটালে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি এভিডিদের

বাঁকুড়ায় টিকাকরণ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বাকি থাকা পারিশ্রমিক না মেটালে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি এভিডিদের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বকেয়া পারিশ্রমিক না মেটালে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাঁকুড়ায় ভ্যাকসিন বহনে নিযুক্ত কর্মীদের একাংশ। দু’দিন আগে তারা গঙ্গাজলঘাটি ব্লকে মিছিল করে। পরে ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করে। কাল, মঙ্গলবার বকেয়া নিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে তাদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হবে বলে কর্মীরা জানিয়েছে। অন্যান্য ব্লকের কর্মীদের একাংশও ওই কর্মবিরতিতে যোগ দেবেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। কর্মবিরতি শুরু হলে জেলায় টিকাকরণ কর্মসূচি ব্যাহত হতে পারে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর আশঙ্কা করছে। ফলে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। 
Advertisement
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় প্রায় ৪৭০টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র (সাব সেন্টার) রয়েছে। ওইসব উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা নিয়ে যাতায়াত করার জন্য পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। ফলে সকলে একসঙ্গে কাজ বন্ধ রাখলে সমস্যা সৃষ্টি হবে। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর যাতে হস্তক্ষেপ করে, সেই দাবি কর্মীরা তুলেছেন।  আন্দোলনকারীদের মধ্যে জয়ন্ত মল্লিক বলেন, আমরা ‘অল্টারনেটিভ ভ্যাকসিন ডেলিভারি বয়’ (এভিডি) হিসেবে গঙ্গাজলঘাটি ব্লকে কাজ করি। অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে টিকা ভর্তি বাক্স নিয়ে আমরা বিভিন্ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাই। আবার অব্যবহৃত টিকা নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসি। মাঝেমধ্যে দিনে দু’বারও যাতায়াত করতে হয়। আমাদের পারিশ্রমিক হিসেবে মাত্র ২০০ টাকা দেওয়া হয়। তারমধ্যে বাইকের জ্বালানি তেল বাবদ ১০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে এমনিতেই আমরা নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করি। তারউপর করোনাকাল থেকে আমাদের পারিশ্রমিক অল্প অল্প করে বকেয়া রাখা হচ্ছে। ১২ মাস কাজ করার পর আট মাসের টাকা দেওয়া হয়। তারফলে আমরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। বারবার বিষয়টি লিখিতভাবে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হলেও সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না। আগামী মঙ্গলবার আমরা আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তাতে সদর্থক বার্তা না পেলে বুধবার থেকে ব্লকের ১৮ জন কর্মী অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করবেন। বাকি ব্লকগুলির কর্মীরাও আন্দোলনে নামার তোড়জোড় শুরু করেছেন। 
গঙ্গাজলঘাটির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শর্মিলা দাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, অন্যান্য ব্লকের তুলনায় আমাদের বকেয়া অনেক কম। তা সত্ত্বেও ‘এভিডি’ কর্মীরা ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে অযথা জলঘোলা করছেন। এমনকী আমার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক লেখালেখিও করা হচ্ছে। আমরা চারবার জেলাস্তরে টাকা চেয়ে পাঠিয়েছি। উপরমহল থেকে টাকা না দেওয়া হলে আমি কী করতে পারি? আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে কর্মীদের কোনও লাভ হবে না। বাঁকুড়ার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (তিন) সজল বিশ্বাস বলেন, গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ‘এভিডি’দের আন্দোলনের বিষয়টি শুনেছি। রাজ্য টাকা দিলেই দ্রুত কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। কেউ যাতে কর্মবিরতি না শুরু করেন, তারজন্য প্রয়োজনে আলোচনা করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ