Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় সামগ্রিক ফলন বেশি, ‘ডানা’য় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা পেলেন না বিমার সুবিধা

বাঁকুড়ায় সামগ্রিক ফলন বেশি, ‘ডানা’য় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা পেলেন না বিমার সুবিধা
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গতবারের তুলনায় বাঁকুড়ায় ধানের সামগ্রিক ফলন বেশি হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ডানার ‘ঝাপটা’ খেয়ে ক্ষতির মুখে পড়া চাষিরা এবার বিমার সুবিধা পেলেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। আশপাশের জেলার চাষিরা বিমার ক্ষতিপূরণ পেলেও বাঁকুড়া কেন এক্ষেত্রে বঞ্চিত থাকবে? এই প্রশ্নও ভুক্তভোগী চাষিরা তুলতে শুরু করেছেন।   
Advertisement
বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) দেবকুমার সরকার বলেন, গত খরিফ মরশুমে জেলার ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৯৮ জন চাষি বাংলার ফসল বিমা যোজনায় আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, জেলার একজন চাষিও এবার বিমার ক্ষতিপূরণ পাননি। কিছু কিছু জায়গায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমন ধান চাষে ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু, জেলায় আমনের অপ্রত্যাশিত ফলনের কারণেই চাষিরা বিমার টাকা পাননি। এবার জেলায় ১২ লক্ষ ৯ হাজার মেট্রিক টন ধান ফলেছে। যা গতবারের থেকেও বেশি। জেলায় খাওয়ার জন্য সারাবছর ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান প্রয়োজন হয়। 
বড়জোড়ার চাষি মিলন সরকার, নিতাই মণ্ডল বলেন, পুজোর মুখে ডিভিসি-র ছাড়া জলে বাঁকুড়ার দামোদর তীরবর্তী ব্লকগুলির ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিঘার পর বিঘা ধান জমি দীর্ঘদিন জলের তলায় ছিল। ফলে সদ্য রোয়া ধানের চারা নষ্ট হয়ে যায়। ধান পেকে যাওয়ার পরেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নষ্ট হয়েছে। তারপরেও বিমার ক্ষতিপূরণের টাকা জেলার চাষিরা পেলেন না। এরফলে চাষিরা বিমার আবেদন করার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাবেন। কুয়াশা ও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে আলুর নাবি ধসা রোগ ছড়াচ্ছে। এব্যাপারেও কৃষিদপ্তরের নজর দেওয়া প্রয়োজন। 
উল্লেখ্য, আগে শস্য বিমার প্রিমিয়াম চাষিদের দিতে হতো। বর্তমানে রাজ্য সরকার প্রিমিয়াম বাবদ অর্থ বিমা সংস্থাকে মিটিয়ে দেয়। চাষিদের শুধু আবেদন করতে হয়। তবে গত কয়েকবছর ধরেই বিমার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতি নজরে পড়ছে। এবারও বিভিন্ন জেলায় বিমার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একই জমির দু’জন অংশীদারের মধ্যে একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা ঢুকলেও অন্যজন বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে গোটা জেলাকে এভাবে বিমার আওতা থেকে বাদ দেওয়া উচিত হয়নি বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের চিহ্নিত করে বিমার টাকা মিটিয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে অনেকেই দাবি তুলেছেন।      
আলু চাষের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি রাজ্য থেকে একটি দল বাঁকুড়ায় আসে। কুয়াশা সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে আলুর ক্ষতি হয়েছে কিনা তা ওই দলের সদস্যরা খতিয়ে দেখেন। এব্যাপারে জেলা কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আলুর তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি এখনও পর্যন্ত হয়নি। ব্লকের কৃষি আধিকারিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। যদিও জেলার বেশ কিছু জায়গায় আলুর নাবি ধসা রোগ ছড়িয়ে পড়ার দাবি করেছেন চাষিরা। জেলায় এবার প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকায় চাষ হওয়া জলদি জাতের আলু ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে। সেই আলু বাজারজাত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ