নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এবারের শিল্প সম্মেলনে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার উদ্যোগপতিদের কাছ থেকে ২১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্র ভবনে সিনার্জির উদ্বোধন করে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা একথা ঘোষণা করেন। আগামী বছরে ওই পরিমাণ বেড়ে ৪৭০০ কোটি টাকা হবে বলেও মন্ত্রী আশা করেন। এর ফলে জঙ্গলমহলের দুই জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন। এদিন বাঁকুড়ার রবীন্দ্র ভবনে ওই শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে মন্ত্রী ছাড়াও দুই জেলার জনপ্রতিনিধি, পুলিস ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের রাজ্যস্তরের আধিকারিকরাও ওই সম্মেলনে হাজির হন। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া মিলিয়ে মোট প্রায় ৫০০জন উদ্যোগপতি এদিনের সিনার্জিতে অংশ নেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের আমলে এরাজ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে জোয়ার এসেছে। এক্ষেত্রে বাংলা বর্তমানে দেশের রোল মডেল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট ও মাঝারি শিল্প সহায়ক একাধিক জনমুখী প্রকল্পও চালু করেছেন। ফলে উদ্যোগপতি থেকে শ্রমিক সকলেই উপকৃত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বড় ও ভারী শিল্পে একলপ্তে অনেক টাকা বিনিয়োগ হয়। তবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে অল্পস্বল্প পুঁজি নিয়ে অনেকে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে নিবিড়ভাবে এই শিল্পেও বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলমহলের দুই জেলায় বালুচরি, কাঁসা-পিতল, লাক্ষা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকবছরে বাঁকুড়ার অযোধ্যা, পুরুলিয়ার কাশীপুর সহ অন্যান্য এলাকায় কাঁসা-পিতলের একাধিক ক্লাস্টার হয়েছে। ঝালদায় হয়েছে লাক্ষা ক্লাস্টার। বিষ্ণুপুরে বালুচরি শাড়িতে নিত্যনতুন বৈচিত্র্য আসছে। তার জন্য অনেককে সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। আগামীতে ওই শাড়ির বিপণন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বড়জোড়ায় কংসাবতী স্পিনিং মিলের জমিতে একটি শিল্পপার্ক তৈরি করা হয়েছে। কোতুলপুরে ৯৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার। সেখানে ৩১০জন তাঁতি উপকৃত হবেন। পুরুলিয়ার বরাবাজারে মাশরুম প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের কিট বিতরণের জন্য সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
Advertisement
এছাড়াও চলতি অর্থ বর্ষের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় নতুন করে ৩৭০টি ইউনিট শিল্প স্থাপনে ছাড়পত্র পেয়েছে। গত আর্থিক বছরে দুই জেলার ব্যাঙ্কগুলি মোট ৬৭৫৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে। এবার প্রথম ছ’মাসে ওই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৯০ কোটি টাকায়। দুই জেলায় বাংলাশ্রীর ইনসেনটিভ স্কিমের আওতায় ৩২টি ইউনিট ৭ কোটি ৮ লক্ষ টাকা পেয়েছে। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের আওতায় চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩৬১টি ঋণের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। ওই খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ৩০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। পুরুলিয়ার জামকিরিতে ২১ একর ও বাঁকুড়ার মূড়াকাটায় পাঁচ একর জমির উপর দু’টি শিল্পতালুক তৈরি হচ্ছে। তা সম্পূর্ণ হলে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও ১২০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দেউলিতে ৩৩ একর জায়গাজুড়ে একটি শিল্পপার্ক গড়ে উঠছে। ওই পার্কের পরিকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষের পথে। তা সম্পূর্ণ হলে এলাকার অর্থনীতির ভোল পাল্টে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের
আধিকারিকদের দাবি।
আধিকারিকদের দাবি।



