Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া শহরে টোটো চালকদের দৌরাত্ম্য, তিনগুণ ভাড়ার দাবি

বাঁকুড়া শহরে টোটো চালকদের দৌরাত্ম্য, তিনগুণ ভাড়ার দাবি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বেআইনি টোটোর বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হতেই বৈধ চালকরা লাগামছাড়া ভাড়া হাঁকছেন। মাস খানেক আগেও যেখানে ১০টাকা ভাড়া ছিল, তা এখন ৩০-৪০টাকা করে তাঁরা নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া শহরে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় পুরসভা, পুলিস বা প্রশাসনও এদিকে নজর দিতে পারছে না। মওকা বুঝে টোটো চালকরা চুটিয়ে রোজগার করছেন। বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া পুরসভা ও সদর মহকুমা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিনদিন বাড়ছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, পুজোর আগে বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারও টোটোর মাত্রাছাড়া ভাড়া নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁকেও এক টোটো চালক তিনগুণ বেশি ভাড়া চেয়েছিলেন। পরে পরিচয় পেয়ে অবশ্য ন্যায্য ভাড়ায় বাড়ি পৌঁছে দেন। চেয়ারম্যান বলেন, টোটো সমস্যার সমাধানের জন্য আমি পুলিস ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছি। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় আলোচনায় বসা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা মিটলেই আলোচনা হবে। সেখানেই ভাড়া, রুট নির্ধারণ সহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। 
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সদর মহকুমা প্রশাসনের তরফে সাধারণত টোটোর ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি দেখা হতো। মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের লোকজন ই-রিকশর রুট নির্ধারণ করে থাকে। ওই দুই বিভাগকে নিয়ে প্রয়োজনে আমরা আলোচনা করব। মাত্রাছাড়া ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি বরদাস্ত করা যাবে না। এব্যাপারে যাত্রীদেরও সচেতন করা হবে। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরে কয়েক হাজার টোটো আগে চলাচল করত। কিন্তু, যানজট এড়াতে সম্প্রতি শহরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার টোটো শহরে ঢোকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শহরে চলাচলকারী টোটোগুলিকে পুরসভার নম্বর প্লেট তথা অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিহ্নিতকরণের সুবিধার্থে ওই উদ্যোগ বলে পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে। কয়েকবছর আগে সদর মহকুমা প্রশাসনের তরফে শহরে চলাচলকারী টোটোর ক্ষেত্রে সর্বাধিক ১০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তার বেশি ভাড়া না নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। শহরের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে টোটো চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ বা ৩০ টাকা নিতেন। তা যাত্রীরা দিয়েও দিতেন। কিন্তু, এক বা দু’কিলোমিটার দূরত্বে যাওয়ার জন্য চালকরা এতদিন ১০টাকাই দাবি করতেন। এখন সেক্ষেত্রেও ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তারফলেই যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের এক টোটো চালক বলেন, আগে আমাদের ওয়ার্ড ও আশপাশের রাস্তাঘাটে ২০০ টোটো চলাচল করত। তখন যাত্রী তোলার জন্য আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত। মাথাপিছু পাঁচ টাকাতেও যাত্রী পরিবহণ করেছি। ধরপাকড়ের ফলে টোটোর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাত-বিরেতে তা আরও কমে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ