Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় রোটা ভাইরাসের টিকা অমিল, দুর্ভোগে প্রসূতি মায়েরা

বাঁকুড়ায় রোটা ভাইরাসের টিকা অমিল, দুর্ভোগে প্রসূতি মায়েরা
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রোটা ভাইরাসের প্রতিষেধক পাওয়া যাচ্ছে না বাঁকুড়ায়। শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ এই টিকা অমিল হওয়ায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন মায়েরা। প্রতিদিন নবজাতকদের নিয়ে জেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে মায়েরা টিকার জন্য যাচ্ছেন। দিনভর হাপিত্যেশ করে অনেকে বসেও থাকছেন। কিন্তু, টিকা পাচ্ছেন না। জেলায় টিকা না থাকার বিষয়টি খোদ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানতেন না। বিভিন্ন ব্লক থেকে টিকা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। বিষয়টি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জেলাস্তরে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। এদিন যোগাযোগ করা হলে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন প্রথমে টিকার ঘাটতির বিষয়টি মানতে চাননি। জেলায় রোটা ভাইরাসের টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি ফের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ফোন করে টিকার ঘাটতির কথা মেনে নিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যভবনে আমাদের গাড়ি টিকা আনতে গিয়েছিল। কিছু ডোজ পাওয়া গিয়েছে। তা ব্লকে ব্লকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বাকি টিকা এলে সমস্যা মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাঁকুড়া শহর সহ কিছু জায়গায় বুধবার রোটা ভাইরাসের টিকাকরণ হয়েছে।
Advertisement
শিশুদের নিয়ে শালতোড়া ব্লকের গোগরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকার জন্য গিয়েছিলেন শ্যামলী দাস, কল্পনা মণ্ডল। তাঁরা বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই রোটা ভাইরাসের টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এইসময় প্রতিষেধকের অভাবে শিশুদের শারীরিক সমস্যা হলে আমাদের ভোগান্তি বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।  শালতোড়া ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সঙ্কেত মণ্ডল বলেন, জেলায় টিকা না থাকার বিষয়টি আমরা সপ্তহখানেক আগেই জানিয়েছি। টিকা পেলেই তা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তা শিশুদের দেওয়া হবে।  স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ডায়ারিয়ার প্রতিষেধক হিকেবে রোটা ভাইরাসের টিকা শিশুদের দেওয়া হয়। বয়স দেড় থেকে দু’মাসের মধ্যে শিশুদের ওই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। মাথাপিছু দুই মিলিলিটার টিকা অনেকটা ওরাল স্যালাইনের মতো শিশুদের খাওয়ানো হয়। তার একমাসের মাথায় টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ খাওয়ার এক মাসের মাথায় তৃতীয় তথা শেষ ডোজ খাওয়ানো হয়। 
এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, প্রতিষেধক দেওয়া হলে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা ততটা সঙ্কটজনক হয় না। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অনেকেই পেটের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ওই টিকার নিয়মিত সরবরাহ থাকা প্রয়োজন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ