নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে খোলা হয়েছে ‘স্বচ্ছ পুরসভা’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। যেখানে পুরসভার অনিয়ম নিয়ে সরব কাউন্সিলাররা। তাতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বাঁকুড়া পুরসভার অন্দরে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি প্রভাবশালী ‘চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল’ (সিআইসি) সদস্যদেরও ওই গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দিন কয়েক আগে পর্যন্ত ওই গ্রুপে ১০ জন কাউন্সিলার ছিলেন। দিনদিন সেখানে কাউন্সিলারের যোগদান বেড়েই চলেছে। ফলে অনেকেই অনাস্থার সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন। কিছুদিন আগে পুরসভার সিংহভাগ কাউন্সিলার ‘দুর্নীতি’ ও ‘স্বজনপোষণের’ অভিযোগ তুলে বোর্ড মিটিংয়ে সরব হয়েছিলেন। এমনকী, বৈঠকের রেজ্যুলিউশনে সই পর্যন্ত করতে রাজি হচ্ছিলেন না। বিষয়টি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কানেও পৌঁছয়। পরে নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলাররা যে এখনই ‘রণে ভঙ্গ’ দিচ্ছেন না, তা ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার মধ্য দিয়েই বোঝা যাচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, ওই ধরনের কোনও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথা আমার জানা নেই। তবে পুরসভার সব কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গেই করা হয়। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ঠিক নয়। তাছাড়া পুর এলাকার সব প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব আমাদের উপর ন্যস্ত থাকে না। অনেক কাজ মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর সহ অন্যান্য সরকারি বিভাগ সরাসরি বাস্তবায়ন করে। কেউ কেউ ওইসব প্রকল্পের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়েও আমাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি আরও বলেন, পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে কাউন্সিলারদের প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে। আমরা সেসবের যথাযথ উত্তরও দিয়ে থাকি। আমাদের মধ্যে কোনও মতানৈক্য নেই।
Advertisement
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলার বলেন, পুর কর্তৃপক্ষের একাংশ দিনদিন ঠিকাদার নির্ভর হয়ে উঠছে। কেউ কেউ নিজের ওয়ার্ডে কার্যত মৌরসিপাট্টা চালাচ্ছেন। প্রকল্প রূপায়ণের পর নামকাওয়াস্তে টেন্ডার করা হচ্ছে। কাজের মানও তলানিতে ঠেকেছে। পুরসভার কাজ বণ্টনেও ঠিকাদার রাজ চলছে। কয়েকজন ঠিকাদারের একটি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে এক মাতব্বর সব ব্যাপারে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ওইসব ব্যাপারে আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসতে চেয়েছি। কিন্তু, আমাদের পাত্তা দেওয়া হয়নি। অন্য এক কাউন্সিলার বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে সই করতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান কিছুটা নরম হয়েছিলেন। আমরা রাজ্য ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে পুরো বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। যাবতীয় অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার পর কাউন্সিলাররা তাতে সইও করেছেন। প্রয়োজনে তা রাজ্যস্তরে পাঠানো হবে। আমরাও তলে তলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। অনাস্থা আনা হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের দিকে পাল্লা ভারী হচ্ছে। ‘স্বচ্ছ পুরসভা’ গ্রুপে কাউন্সিলারের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সম্প্রতি এক কাউন্সিলারের অফিস সহ একাধিক জায়গায় নিজেদের মধ্যে গোপন বৈঠক করেছি। যে কোনওদিন চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে পারে।
চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ এক কাউন্সিলার বলেন, কেউ কেউ চাপ সৃষ্টি করে আখের গোছাতে চাইছেন। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনজন ‘অ্যাডমিন’ রয়েছেন। তাঁরাই আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। আমাদের কাছেও সব খবর রয়েছে। আমরা এখন বসে জল মাপছি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখা হচ্ছে। সময় হলেই ‘ষড়যন্ত্রে’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হবে।
চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ এক কাউন্সিলার বলেন, কেউ কেউ চাপ সৃষ্টি করে আখের গোছাতে চাইছেন। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনজন ‘অ্যাডমিন’ রয়েছেন। তাঁরাই আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। আমাদের কাছেও সব খবর রয়েছে। আমরা এখন বসে জল মাপছি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখা হচ্ছে। সময় হলেই ‘ষড়যন্ত্রে’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হবে।



