Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় ভাইরাস ফ্রি হাইটেক আলু বীজ উৎপাদনে জোর

বাঁকুড়ায় ভাইরাস ফ্রি হাইটেক আলু বীজ উৎপাদনে জোর
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ২০৩০ সালের মধ্যে আলু বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে এগচ্ছে রাজ্য কৃষিদপ্তর। বাঁকুড়া সহ অন্যান্য জেলায় দপ্তরের তরফে চাষিদের ভর্তুকি দিয়ে বীজ উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, জয়পুর, গঙ্গাজলঘাটি, তালডাংরা, রাইপুর, পাত্রসায়র ব্লক এলাকার চাষিদের নিয়ে বিশেষ ‘হাইটেক’ আলু বীজ চাষ হয়েছে। বুধবার বাঁকুড়া জেলা কৃষিদপ্তরের আধিকারিক ও মেদিনীপুর থেকে আসা বীজ গবেষকরা বেশ কিছু জায়গায় গিয়ে আলু জমিতে বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন।  
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা কৃষিদপ্তরের বীজ বিষয়ক অতিরিক্ত নির্দেশক(কোয়ালিটি কন্ট্রোল) বিধানচন্দ্র সাহানা বলেন, বর্তমানে চাষিদের পাঞ্জাবের আলু বীজের উপর নির্ভর করতে হয়। তারফলে খরচ বেশি পড়ে। অনেক ঝক্কিও পোহাতে হয়। ভিন রাজ্য থেকে অনেক সময় ভেজাল বীজও চলে আসে। তা ফলনের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। সেইসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। 
মেদিনীপুর থেকে আসা এক কৃষি গবেষক বলেন, বর্তমানে আমরা প্রয়োজনের ১৫-২০ শতাংশ বীজ রাজ্যে উৎপাদন করতে পারছি। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এদিন আমরা জয়পুর, বিষ্ণুপুর ও গঙ্গাজলঘাটি ব্লক ঘুরে দেখেছি। আজ, বৃহস্পতিবার তালডাংরা, রাইপুর ব্লক পরিদর্শন করব। তিনি আরও বলেন, প্রথম দু’-তিন বছর বীজ আলু থেকে শুধুমাত্র বীজ উৎপাদনই করা হবে। পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে খাওয়ার আলু উৎপাদনের জন্য ওই বীজ অন্যান্য চাষিদের দেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে জ্যোতি, পোখরাজ সহ মোট ১৪টি প্রজাতির আলু বীজের পরীক্ষামূলক উৎপাদন হচ্ছে। তারমধ্যে বাঁকুড়ায় প্রায় সাত রকমের আলুর চাষ হচ্ছে। মাছি সহ অন্যান্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ যাতে বীজের ক্ষতি করতে না পারে তারজন্য আমরা বাঁশের কাঠামো ও জাল দিয়ে জমি ঢেকে রাখছি। ওই বীজ ভাইরাস ফ্রি হবে। সেই বীজ চাষ করলে রোগপোকায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম হবে।    জয়পুর ব্লকের বাঁশিচণ্ডীপুর গ্রামের চাষি হরিসাধন রায় ও গঙ্গাজলঘাটির জামবেদিয়ার বাসিন্দা ভবদেব মণ্ডল বলেন, কৃষিদপ্তর আমাদের ‘হাইটেক’ বীজ উৎপাদনের জন্য যাবতীয় সাহায্য করেছে। এবার ভালো ফলন হয়েছে। আগামী দিনে বীজ উৎপাদনে আমরা স্বাবলম্বী হব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ