Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীজতলা নষ্ট করছে পরিযায়ী পাখির দল, মায়াপুরে মাথায় হাত চাষিদের

বীজতলা নষ্ট করছে পরিযায়ী পাখির দল, মায়াপুরে মাথায় হাত চাষিদের
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: পরিযায়ী পাখিরা প্রতি বছরের মতো এবারও এসেছে মায়াপুরে। এতে সাধারণ মানুষ খুশি হলেও ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। দলে দলে পাখি জমিতে বসে ধান নষ্ট করে দিচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।
Advertisement
দেশীয় বালি হাঁস আর পরিযায়ী পাখির হাত থেকে জমির ধান বাঁচাতে অনেকেই জাল বিছিয়ে জমির চারিদিক ঘিরে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, জমিতে ধান লাগানোর পর পাখির হাত থেকে ধান বাঁচাতে রাতের বেলায় জমিতে লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখতে হয়। অবশ্য এতকিছুর পরও ওইসব পরিযায়ী পাখিদের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে পারছেন না মায়াপুর-বামনপুকুর দু’ নম্বর পঞ্চায়েতের রুদ্রপাড়া মৌজার নিদয়া, ভারুই ডাঙা, শ্রীনাথপুর এলাকার চাষিরা। ইসকন মন্দিরের পুলিস ফাঁড়ির বিপরীত দিকে রুদ্রপাড়া মৌজার প্রায় ৩০০ বিঘার বেশি জমিতে এই ধান চাষ হয়। জমির পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছাড়ি গঙ্গা। প্রায় ১০ বছর ধরে এই এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ভিড় করছে। এই সব পাখিগুলি জলের পানার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তারপর সুযোগমতো দলে দলে এসে জমির ধান নষ্ট করে দেয়। 
নিদয়ার বাসিন্দা মানিক বিশ্বাস বলেন, বালি হাঁস আর পরিযায়ী পাখির দল রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ফসল বাঁচাতে গ্রামের চাষিরা সন্ধ্যার পর থেকেই জমিতে হ্যারিকেন, লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখেন। এমনকী দিনের বেলাতেও পাহারা দিতে হয়। 
নিদয়ার বাসিন্দা তিনকড়ি বিশ্বাস, রবীন বিশ্বাসরা বলেন, রুদ্রপাড়া মৌজায় আমাদের দু’জনের ৯ বিঘা জমি আছে। সেই জমিতে ধান রোয়াব। এই পাখিগুলো, নীল দেখতে মাথায় কালো ঝুঁটিওয়ালা বিভিন্ন রকমের বিদেশি পাখি সেগুলো আমাদের ধান নষ্ট করে দিচ্ছে। শীতের সময়ে ওই সব পাখিরা বেশি আসে। অনেক সময়ে শীতের মধ্যে দল বেঁধে পাহারা দিতে হয়। রবীনবাবু বলেন, ঠান্ডার কারণে হয়তো একদিন জমিতে আসতে পারলাম না রাতের বেলা, পরের দিন সকালে এসে দেখি প্রায় সব ধানের চারা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। মুরগির মতো দেখতে লম্বা লম্বা সব পাখি, ওরা ধানের চারা কেটে দিচ্ছে। 
পক্ষীপ্রেমী চিরন্তন সরকার বলেন, যে পাখিগুলোকে মূলত দেখা গিয়েছে সেই পাখিগুলোকে ইংরেজিতে বলে রেড ওয়াটেলড ল্যাপউইন বার্ড, বাংলা নাম হাটটি পাখি। চারাদ্রিডি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। অপর পাখিটির ইংরেজি নাম পারপেল সোয়াম ফেন। যার বর্তমান নাম গ্রে হেডেড সোয়ামহেন, বাংলা নাম কায়েম পাখি, এটি রালিডাই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এই পাখিগুলি মূলত পছন্দ করে সবুজ কচি ঘাস। সেক্ষেত্রে অনেক সময় ফসলের চারা খেয়েও নষ্ট করে ফেলে। সকল মানুষের কাছে অনুরোধ করব, ফসল বাঁচাতে গিয়ে পাখিদের যেন কোনও ক্ষতি না করা হয়।
নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, ওই রুদ্রপাড়া মৌজায় প্রতিবছরই কমবেশি পাখি আসে। এবছর ইদ্রাকপুরে ছাড়ি গঙ্গায় কচুরিপানা রয়েছে। এখানে স্বচ্ছ জল মেলায় পাখি ভিড় করেছে বেশি। আমরা বিষয়টা বনদপ্তরকে জানিয়েছি। এই পাখির দল বীজতলা নষ্ট করে দিচ্ছে। ওইসব কৃষকদের ফের ধানের বীজ দেওয়ার দাবি করছি। পাশাপাশি আমরা পঞ্চায়েত সমিতি থেকে চেষ্টা করছি তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তিনি আরও বলেন, পাখিদের যাতে কেউ বিরক্ত না করে, সেদিকে বনদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, এই পাখিগুলো কিন্তু সব সময় থাকে না, চলে যাবে। কীভাবে জমির ফসলবাঁচানো যায় সে বিষয়ে নবদ্বীপ ব্লকের কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে দেখছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ