মুম্বই: বাজেটে আয়করে ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে বাজারকে একটা বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বুঝিয়েছেন, মধ্যবিত্তের হাতে এবার অর্থ থাকবে এবং তারা আরও বেশি করে ভোগ্যপণ্য কিনবে। তাতেও কিন্তু খুব একটা আস্থা রাখতে পারছেন না লগ্নিকারীরা। তাঁদের এখনও মনে হচ্ছে না যে, এই জনমোহিনী বাজেটের পরও বাজার ঘুরবে। ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি উঠে দাঁড়াতে। সেই প্রমাণই মিলছে শেয়ার বাজারের পতনে। শনিবার বাজেট পেশ হয়েছে, আর সোমবার ৩১৯ পয়েন্ট পড়েছে সেনসেক্স। এর একটা বড় কারণ, বিদেশি লগ্নিকারীদের ডলার তুলে নেওয়া। একদিকে এই অনাস্থা, আর অন্যদিকে আমেরিকার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি। এই সাঁড়াশি চাপেই আরও দুর্বল হল টাকা। সোমবার একধাক্কায় ৫৫ পয়সা পড়ে ডলারের বিনিময় মূল্য থামল ৮৭ টাকা ১৭ পয়সায়, যা সর্বকালীন রেকর্ড। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যা, তাতে আপাতত টাকার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
Advertisement
‘শক্তিশালী ডলার’ নিয়ে রবিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নির্মলা। একইসঙ্গে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘টাকার পতন রুখতে সমাধান সূত্র খুঁজছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।’ তাঁর এই মন্তব্যের রেশ কাটার আগেই তলানির নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল টাকা। বাজেটে অনাস্থার পাশাপাশি ‘ট্রাম্প এফেক্ট’কেও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের একটা বড় অংশ বিদেশ থেকে আসে। তা কিনতে হয় ডলার দিয়ে। টাকা দুর্বল হলে আমদানি খরচ বাড়বে। এর মধ্যে আবার বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দামও ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে। তার মূলে অবশ্যই ট্রাম্পের পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনা পণ্যের উপরে বিপুল শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাল্টা দিয়েছে সেই দেশগুলিও। ফলে ক্রমে দানা বাঁধছে ‘বাণিজ্য যুদ্ধে’র আশঙ্কা। এই আবহে অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় বেড়েছে ১.৪১ শতাংশ। এদিন ফিউচারস মার্কেটে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭৬.৭৪ ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করতে হয়। স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতকেও একই পরিমাণ আমদানির জন্য অনেক বেশি খরচ করতে হবে। ফল ভুগবে সাধারণ মানুষ।
প্রশ্ন উঠছে, মোদি সরকার টাকার পতন রুখতে পারছে না কেন? অথচ বিরোধী দলে থাকার সময় এই নিয়ে বাজার গরম করতে ছাড়তেন না নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডলারের নিরিখে টাকার দাম ৪০ টাকায় নিয়ে আসবেন! সেই প্রতিশ্রুতির কথা এখন তাঁকে মনে করে দিচ্ছে বিরোধীরা।
প্রশ্ন উঠছে, মোদি সরকার টাকার পতন রুখতে পারছে না কেন? অথচ বিরোধী দলে থাকার সময় এই নিয়ে বাজার গরম করতে ছাড়তেন না নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডলারের নিরিখে টাকার দাম ৪০ টাকায় নিয়ে আসবেন! সেই প্রতিশ্রুতির কথা এখন তাঁকে মনে করে দিচ্ছে বিরোধীরা।



