নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হওয়ার কথা ছিল বাজেট আলোচনার পর সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে সেটাই হয়ে দাঁড়ালো যেন বিজেপি বনাম তৃণমূলের রাজনৈতিক তরজা। সবথেকে বিস্ময়কর অর্থমন্ত্রী নিমলা সীতারামনের সরাসরি তৃণমূল বিরোধিতা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে বিরোধী দল শাসিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তথ্য পরিসংখ্যান সহকারে আক্রমণ করা স্বাভাবিক। কিন্তু নির্মলা সীতারামন সেই সীমায় নিজেকে আবদ্ধ রাখলেন না। সরাসরি ভোটের প্রচারের ধাঁচেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে গেলেন। প্রশাসনিক যুক্তির পরিবর্তে আগাগোড়া যা হয়ে রইল দলীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তৃতা। তিনি বললেন, তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক। তৃণমূল মানেই বঞ্চনা। নিজেদের দলের নাম দিয়েছে তৃণমূল, অথচ আদতে তারা নিচুস্তরের গরিব মানুষের বিরোধী। অর্থমন্ত্রীর বাজেট সংক্রান্ত জবাবি ভাষণের সিংহভাগ শুধুই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূলকে আক্রমণ। অন্য রাজ্য অথবা দল সম্পর্কে তিনি কোনও উচ্চবাচ্যই করেননি। এদিন ভাষণ চলাকালীন অর্থমন্ত্রীকে লাগাতার প্রশ্ন এবং পাল্টা আক্রমণ করে গিয়েছেন তৃণমূল এমপিরাও। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মহুয়া মৈত্র সকলেই দফায় দফায় প্রশ্ন করেছেন, বাংলাকে কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে? কোন কোন খাতে কত টাকা বাংলার বকেয়া আছে সেই পরিসংখ্যানও তাঁরা চিৎকার করে বলেন। পাল্টা অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলায় ১০০ দিনের কাজে ২৫ কোটির ভুয়ো জব কার্ড রয়েছে। মিড ডে মিলের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। পানীয় জল প্রকল্পে জাতীয় স্তরের গড় সাফল্য যেখানে ৭৪ শতাংশ, সেখানে বাংলার মাত্র ৪৩ শতাংশ।
Advertisement
নির্মলা সীতারামনের তৃণমূল ও বাংলার সরকার বিরোধী এই প্রবল আক্রমণ প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মোদি সরকার আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সাফল্য সহ্য করতে পারে না। আর বাংলাকে এই সরকার ও বিজেপি কেউই মন থেকে পছন্দ করে না। ১০ বছরে বাংলাকে আর অন্য রাজ্যকে কী কী উপহার দেওয়া হয়েছে, তা পাশাপাশি রাখলেই স্পষ্ট হবে বাংলা বিরোধী মনোভাব। এবারও বাজেটে বাংলার প্রাপ্য শূন্য।
অন্যদিকে, টাকার রেকর্ড পতন, মূল্যবৃদ্ধি, মূলধনী ব্যয় নগণ্য হওয়ার মতো তাবৎ অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের একটি রিপোর্টকে উর্দ্ধৃত করে অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, টাকার পতন সাংঘাতিক উদ্বেগজনক কিছু নয়। মূল্যবৃদ্ধির কথাও মানতে চাননি তিনি।
অন্যদিকে, টাকার রেকর্ড পতন, মূল্যবৃদ্ধি, মূলধনী ব্যয় নগণ্য হওয়ার মতো তাবৎ অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের একটি রিপোর্টকে উর্দ্ধৃত করে অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, টাকার পতন সাংঘাতিক উদ্বেগজনক কিছু নয়। মূল্যবৃদ্ধির কথাও মানতে চাননি তিনি।



