Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাজারে কমেছে না দাম, হিমঘরে মজুত প্রায় ২ লক্ষ প্যাকেট আলু

বাজারে কমেছে না দাম, হিমঘরে মজুত প্রায় ২ লক্ষ প্যাকেট আলু
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কড়া পদক্ষেপ সত্ত্বেও আলুর দামে লাগাম পরাতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো রুখতে ঝাড়গ্রাম সীমানায় চলছে কড়া নজরদারি। এদিকে জেলার হিমঘরগুলিতে প্রায় দুই লক্ষ প্যাকেট (৫০ কেজি করে) আলু মজুত রয়েছে। কিন্তু এখনও বাজারে আলু কিনতে এসে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। এখন বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। যদিও কৃষি বিপনণ দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, এখন বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা কেজি দরে। ছোট বাজারগুলিতে দু’-এক টাকা বেশি নিতে পারে। তাছাড়া পাঞ্জাব থেকে নতুন আলু ঢুকতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে ইউপি থেকেও আলু আসবে। তখন দাম আরও কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।  
Advertisement
ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করেছে রাজ্য সরকার। দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুর পুলিসের একটি দল রামপুরহাট মহকুমায় অভিযান চালিয়ে আটটি আলু বোঝাই লরি আটক করে। ধরা হয় পাঁচজন পাচারকারীকে। আর এই পাচারে মদত দেওয়ার জন্য ঝাড়খণ্ড সীমানার একটি থানার ওসিকেও ক্লোজ করা হয় বলে পুলিস সূত্রের দাবি। কিন্তু এত কিছুর পরও অধিকাংশ বাজারে আলুর দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকার নীচে নামছেই না। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি দর বেশি হওয়ায় তাঁদের বাধ্য হয়েই চড়া দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের ধারণা, কৃত্রিম অভাব তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আলুর দাম বাড়িয়ে রেখেছে ব্যবসায়ীদের একাংশ। যদিও কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে দাবি, পাঞ্জাব থেকে আসা নতুন আলুই এখন বাজারে ৩০-৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পুরনো আলু ২৮ টাকা কেজি। ছোট সাইজের আলু ২৬ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। জেলার হিমঘরগুলিতে মজুত আলুও অল্পস্বল্প বেরচ্ছে। তুলনামূলক সেই আলুর দামও কমেছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাজাগুলিতে ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে। 
এদিকে জেলার ১৭টি হিমঘরের মধ্যে নলহাটি ও মুরারই বাদে বাকিগুলিতে কম বেশি আলুর প্যাকেট মজুত রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় দু’ লক্ষ প্যাকেট। এক হিমঘর মালিক প্রমোদ চাজের বলেন, বীরভূমে হাইব্রিড অর্থাৎ পোখরাজ আলুর চাষ বেশি হয়। এখানকার মানুষ সেই আলু খেতে চান না। এই আলু মূলত ঝাড়খণ্ডে রপ্তানি করা হতো। আর এখানে বর্ধমান, বাঁকুড়া থেকে জ্যোতি আলু আসে। কিন্তু ঝাড়খণ্ড সীমানা সিল থাকায় দিন পনেরো হল হিমঘর থেকে আলু বের হচ্ছে না। যেখানে ১৫ দিনে ৬ শতাংশ আলু বের হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ৩ শতাংশ বেরিয়েছে। যা স্থানীয় বাজারে বিকোচ্ছে। চাহিদা না থাকায় হিমঘরেই পড়ে পোখরাজ আলু। 
হিমঘর মালিক সংগঠনের জেলা সভাপতি জগমোহন সারদা বলেন, হিমঘর পয়েন্টে যা রেট, আর বাজারের যা রেট তাতে প্রচুর তফাত। হিমঘর পয়েন্টে এখন রেট ১৮০০ টাকা কুইন্ট্যাল অর্থাৎ ১৮ টাকা কেজি। বাজারে সেটাই ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এই মুহূর্তে হিমঘর থেকে বেশি আলু বেরলে রেট কমে ১৬০০ টাকায় দাঁড়াবে।
সম্পর্কিত সংবাদ