Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাজারে ডিমের দাম ৮ টাকা! মিড ডে মিল প্রতি বরাদ্দই ৬ টাকা ১৯ পয়সা

বাজারে ডিমের দাম ৮ টাকা! মিড ডে মিল প্রতি বরাদ্দই ৬ টাকা ১৯ পয়সা
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: এক পিস ডিমের দাম আট টাকা! কৃষ্ণনগর শহর সহ গোটা নদীয়া জেলায় ডিমের দাম বৃদ্ধিতে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রাইমারি স্কুলগুলোরও। কারণ প্রাথমিক পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ১৯ পয়সা। চলতি বছরে মিড ডে মিলের জন্য কেন্দ্র সরকার নামমাত্র ৭৪ পয়সা বাড়িয়েছে। এতদিন মিড ডে মিলের জন্য ছাত্র প্রতি বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫ টাকা ৪৫ পয়সা। কিন্তু খাদ্যদ্রব্যের দামে কোনও হেরফের হয়নি। এত কম টাকায় কী করে ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। নামমাত্র বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষক মহলেও। অনেকেই বলছেন, কেন্দ্র সরকার প্রাথমিকের পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। কারণ প্রাথমিকে মাথাপিছু পড়ুয়াদের জন্য অন্তত তিনটাকা বাড়ানোর দাবি করেছিলেন শিক্ষকরা। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘যা বরাদ্দ এসেছে, আমরা সেইমতো স্কুলগুলোকে দিচ্ছি।’ 
Advertisement
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে চাইছে। কিন্তু শীতের শুরুতেই ডিমের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি পিস ডিম সাড়ে ছ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তা এখন বাড়তে বাড়তে আট টাকায় পৌঁছেছে। কৃষ্ণনগর শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অর্ডার দেওয়া থাকলেও ডিম আসছে না। আমাদেরই প্রতি পিস আট টাকায় কিনতে হচ্ছে। লাভ হচ্ছে না আমাদের।’ অথচ এই ডিম প্রাথমিক স্কুলের মিড ডে মিলের অন্যতম উপাদান। যার ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পড়ুয়াদের পুষ্টির সঙ্গে আপোষ করতে হচ্ছে। মিড ডে মিলে মিলছে না গোটা ডিম। কখনও ডিমের ভুজিয়া, কখনও আবার অর্ধেক ডিম, এভাবেই পড়ুয়াদের পেট ভরাতে হচ্ছে। 
বনগ্রাম প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এসবের ফলে প্রাথমিক পড়ুয়াদের পুষ্টিতে প্রভাব পড়ছে। বাজারের যা দাম তাতে মিড ডে মিলের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে আমাদের হিমিশিম খেতে হচ্ছে। ডিম, সোয়াবিন মিড ডি মিলে রাখতেই হয়। অথচ তার যা দাম, আমাদের খুব মেপে মেপে খাবার কিনতে হয়। অন্যদিনের সঙ্গে মি ডে মিলের মেন্যু অ্যাডজাস্ট করতে হয়। সরকারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।’
নদীয়া উত্তর তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষা সেলের সভাপতি কিংশুক দাস বলেন, প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে কেন্দ্র সরকার ছিনিমিনি খেলছে। আমরা দাবি রেখেছিলাম, বরাদ্দ অন্ততপক্ষে মাথাপিছু ৩ টাকা বাড়ানো হোক। কিন্তু সেখানে মাত্র ৭৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে স্কুলগুলিকে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ‌
পাশাপাশি, উচ্চ প্রাথমিক অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলে বরাদ্দ ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। যা ১ টাকা ১২ বয়সা বেড়ে হয়েছে ৯ টাকা ২৯ পয়সা। কিন্তু এর সঙ্গেই যেন পাল্লা দিয়েছে ডিমের দাম।
সম্পর্কিত সংবাদ