সংবাদদাতা, বোলপুর: মঙ্গলবার দুপুরে বোলপুরে তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি যুব মোর্চা। কর্মী-সমর্থকরা ওই দলীয় কার্যালয়ের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই কার্যালয়টি মূলত অনুব্রত মণ্ডলের পার্টি অফিস হিসেবেই পরিচিত। যুব মোর্চার অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই কার্যালয় থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দাবি, বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহকেও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সেই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়ে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন কর্মী-সমর্থকরা।
জানা গিয়েছে, এদিন উন্নয়নমূলক পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বোলপুর পুরসভায় যান বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। পুরসভার বাইরে জড়ো হয়েছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। সেখান থেকে তাঁরা পুরসভার অদূরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে থাকা তৃণমূল কর্মীদের বাইরে বের করে দিয়ে দু’টি গেটেই তালা ঝুলিয়ে দেন বিজেপি কর্মীরা। এই কার্যালয়ে আসা দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী মদনমোহন দে বলেন, হঠাৎ করেই কয়েকজন এসে বেরিয়ে যেতে বলল। তারপর গেটে তালা বন্ধ করে দিল। কেন তা করা হল জানি না। বোলপুর থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এই ঘটনা ঘটলেও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। এব্যাপারে অনুব্রত বলেন, কেন এভাবে পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হল জানা নেই। তবে এই পার্টি অফিস ফুটপাত দখল করে বা সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়নি। এভাবে পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কী ধরনের সংস্কৃতি?
উল্লেখ্য, একসময় এই কার্যালয় থেকেই জেলায় সংগঠন পরিচালনা করত তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের তেমন দেখা না গেলেও অনুব্রত নিয়মিত ওই কার্যালয়ে আসেন। তবে এদিন ঘটনার সময় তিনি বোলপুরে নিচুপট্টিতে নিজের বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপির যুব মোর্চার বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পুরসভায় এসে জানতে পারি এখনও অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয় থেকেই পুরসভার কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হয়। এখান থেকেই কাউন্সিলারদের কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ২০২১সালে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা এই কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই যুব মোর্চার পক্ষ থেকে তালা ঝোলানো হয়েছে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে তৃণমূল কি কোনোদিন অন্য দলের পার্টি অফিসে তালা দেয়নি? ওদের অত্যাচারের কথা সবাই জানেন। তারপরও যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা করা হবে।