শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলে যোগ। বিকেলেই প্রার্থী পবিত্র কর। তিনি নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র। বিজেপি তথা ‘দাদা’র বিজয়কেতন ওড়ানোর অন্যতম সেনাপতি। তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সে সব এখন অতীত। এদিন বিকেল থেকে পবিত্র মমতা-অভিষেকের তরুপের তাস। তাঁকে সামনে রেখে একুশের ‘বিতর্কিত’ পরাজয়ের মুখতোড় জবাব দিতে তৈরি গোটা তৃণমূলও। ঘরের ছেলেকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে খুশি নন্দীগ্রামবাসী। উজ্জ্বীবিত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও। যা দেখে আত্মবিশ্বাসী পবিত্রর মন্তব্য—‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি তুলে দেওয়াই আমার কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’
একদা তৃণমূলেরই ডাকাবুকো নেতা ছিলেন পবিত্র। পরে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। হয়ে ওঠেন ‘দাদা’র বিশ্বস্ত অনুগামী ও সৈনিক। সামলেছেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতির পদও। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ ও ২ পঞ্চায়েতে তাঁর একচেটিয়া আধিপত্য। সেই দাপট আর তাঁর রণকৌশলের জোরেই ২০২১ সালে বয়াল-১ ও ২ পঞ্চায়েত থেকে ৪ হাজার ৪০০ ভোটে লিড পেয়েছিল বিজেপি। এদিন তৃণমূলে ফিরে আসা এবং তাঁকে রাজ্যের হাইভোল্টেজ আসনে প্রার্থী করে দেওয়া শাসক শিবিরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন পবিত্রর নাম অভিষেক ঘোষণা করতেই ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার আনন্দে নন্দীগ্রাম-১ ও ২ পার্টি অফিসে তৃণমূল কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। বয়াল গ্রামেই বাড়ি পবিত্রর। সেখানে গিয়ে তাঁর স্ত্রী তথা বয়াল-১ পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি করকে মিষ্টি খাওয়ান দলীয় কর্মীরা। সবুজ আবির মাখিয়ে দেন। বিকেলে রেয়াপাড়া শিব মন্দিরের সামনে হাজারেরও বেশি কর্মী জড়ো হন। ছিলেন বাপ্পাদিত্য গর্গ, আবু তাহের, রবীন জানা, শেখ কাজেহার সহ নন্দীগ্রামের বহু নেতা। মন্দিরে পুজো দিয়ে খোদামবাড়ি ব্লক তৃণমূল পার্টি অফিসে যান পবিত্র। সেখানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় দলের তরফে। পবিত্র বলেন, ‘আমি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। নন্দীগ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে এই আসন তাঁদের উপহার দিতে চাই।’
পবিত্র ‘ঘরওয়াপসি’ হবেন—এমন জল্পনা চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি কলকাতায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ডাক পড়েছিল জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়েরও। এবার তাঁকে সামনে রেখেইে নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করতে পারে বিজেপির প্রতি নন্দীগ্রাম মানুষের ক্ষোভ, নেতাদের ঔদ্ধত্য। সম্প্রতি, বিজেপি নেতা প্রলয় পালের ‘নারীদের সতীত্ব পরীক্ষা’ করার মতো অশোভনীয় মন্তব্যে সাধারণ মহিলারাও বেজায় চটে। এ সবকিছু বিজেপির কাছে নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
কথা হচ্ছিল বনশ্রীগৌরী গ্রামের বাসিন্দা রাধানাথ দাসের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ‘বিজেপি গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। বরং রাজ্য সরকার ঢালাই রাস্তা করে দিয়েছে। আমাদের গ্রামে অনেকেই বাংলার বাড়ি পেয়েছেন। আমার পরিবারের মোট ১২ জন ভোটার। সামাজিক সুরক্ষা স্কিম, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কৃষকবন্ধু স্কিমে আমরা প্রতি মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা পাই।’ পবিত্রর অনুগামী বলে পরিচিত বিজেপি কর্মী গোপাল দে’র কথায়, ‘আমরা পবিত্রদা’র সঙ্গেই রয়েছি। তাঁর নির্দেশ মতো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
এদিন তৃণমূল নেতা দেবাশিস দাস এবং মহিলা কর্মীরা পবিত্রবাবুর বাড়িতে যান। নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, ‘এবার বিরোধী দলনেতার নাম ও নিশান নন্দীগ্রাম থেকে মুছে দেব। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘তৃণমূল পবিত্র করকে প্রার্থী করায় বিজেপির সুবিধা হল। অনেক কম পরিশ্রম করতে হবে।’
নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রাথী পবিত্র কর।