


সংবাদাদাতা, ঝালদা: ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার আগে থেকেই জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ঝালদা মহকুমাজুড়ে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন, মিছিল ও পথসভা। তবে এবারের লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর স্লোগান। বিজেপির দেওয়াল লেখা ‘জন্ম যখন হিন্দু কুলে, ভোট দিবো সবাই পদ্ম ফুলে’—এই স্লোগানকে ঘিরেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি উন্নয়নের কথা বলতে না পেরে সরাসরি ধর্মীয় মেরুকরণ ও আবেগকে হাতিয়ার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। সম্প্রতি বেগুনকোদর এলাকায় একটি পথসভায় তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি গৌরব সিং বিজেপির এই স্লোগানের পালটা জবাব দেন। তিনি মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জন্ম আমার হিন্দু কুলে, গ্যাসের দাম কি যাব ভুলে? জন্ম আমার হিন্দু কুলে, পেট্রলের দাম কি যাব ভুলে’।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী, বার্ধক্যভাতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের মতো জনহিতকর প্রকল্প মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে। তারা ধর্ম নয়, বরং এই উন্নয়নের খতিয়ান দিয়েই মানুষের কাছে ভোট চাইছে। গৌরব সিং স্পষ্ট জানান, ভোট এলেই বিজেপি ধর্মীয় উসকানি দেয়। ৫ বছরে তাঁদের বিধায়করা কী উন্নয়ন করেছে, সেটা দেওয়াল লিখনে তুলে ধরুক। আমরা ধর্মের মেরুকরণ করি না, উন্নয়নের রাজনীতি করি।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাতর দাবি, এগুলি কর্মীদের অতি-সক্রিয়তা বা আবেগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। দেশ তো ধর্মের ভিত্তিতেই ভাগ হয়েছিল, তখন কি বিজেপি ছিল? তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ধর্মের রাজনীতি আসলে তৃণমূল ও কংগ্রেসই করে আসছে। কর্মীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে কী লিখল, তা দিয়ে সামগ্রিক রাজনীতি বিচার করা চলে না।
ঝালদার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন একদিকে যেমন হিন্দুত্বের স্লোগান, অন্যদিকে তেমনই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার। রাজনীতির কারবারিদের মতে, ২৬-এর লড়াইয়ে একদিকে ‘ধর্মীয় আবেগ’ আর অন্যদিকে ‘উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি’—এই দুই মেরুতেই বিভক্ত হতে চলেছে জঙ্গলমহলের ভোটব্যাঙ্ক। সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকবেন, সেটাই এখন দেখার।