অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: গেরুয়া গড় বলে পরিচিত কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভাতেই সংগঠন গোছাতে গিয়ে হিমশিম দশা পদ্ম শিবিরের। বিজেপির কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় মোট মণ্ডলের সংখ্যা ২৫টি। দেড় মাস আগে ২২টি মণ্ডলের সভাপতির নাম সহ তালিকা প্রকাশিত হয়। কিন্তু কৃষ্ণনগর উত্তরের এক ও তিন এবং চাপড়া-এক মণ্ডলের সভাপতি কারা হবে, তাঁদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তখন বলা হয়, জেলা সভাপতি ঠিক করার পর এই তিনটি মণ্ডলের সভাপতি নির্বাচিত করা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর উত্তরের মতো শক্তি ঘাঁটিতেও দু’টি মণ্ডলের সভাপতি ঠিক করতে ব্যর্থ গেরুয়া শিবির। তবে, ব্যর্থতা না কি দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এসে যাওয়ার ভয়, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে কৃষ্ণনগরের রাজনীতিতে।
যদিও রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করেছে, ওই তিন মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা ঘরের ঝগড়া বাইরে এসে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই কাউকেই বাছাই করতে পারছে না বিজেপি। কথা ছিল, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হলেই, মণ্ডল সভাপতিদের নামও জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা হয়নি। গেরুয়া নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে খুব শীঘ্রই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার দু’টি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে।
দেড়মাস আগে কৃষ্ণনগর সংগঠনিক জেলার ২২টি মণ্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হলেও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার মণ্ডল-১ ও মণ্ডল-৩ এবং চাপড়া বিধানসভার মণ্ডল-১, এই তিনটি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে কৃষ্ণনগর সংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতির নামও ঘোষণা করা হয়েছে। দলের তরফে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্জুন বিশ্বাসকে। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট মণ্ডল গুলির সংগঠন চূড়ান্ত করা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার দু’টি মণ্ডলে দল যাঁদের সভাপতি করতে চাইছে, তাঁদের মেনে নিচ্ছে না নিচুতলার কর্মীরা। ফলে দলের অন্দরের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে আসার ভয়ে কাঁপছে পদ্মবাহিনী।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা নদীয়া জেলার গেরুয়া ঘাঁটি বলেই পরিচিত। সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও হিন্দু অধ্যুষিত এই বিধানসভায় বরাবরই এগিয়ে থেকেছে বিজেপি। কৃষ্ণনগর শহর ও পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে আধিপত্য রয়েছে পদ্মের। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় বিজেপি ৫৩ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে। শুধু কৃষ্ণনগর শহরেই প্রায় ৩০ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। স্বাভাবিকভাবেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিসংখ্যান স্বস্তি দিচ্ছে পদ্মশিবিরকে। তাহলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা করতে তাদের ব্যর্থতা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে বলে রাজনীতির কারবারিদের মত।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘আমাদের সংগঠন মজবুত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা হবে। চাপড়া ও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার দু’টি মণ্ডলের সভাপতিকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ’কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, ‘বিজেপি হল মরশুমি দল। ভোটের সময় আসে। ভোটের পর ফিরে যায়। তাই সাধারণ মানুষ ওদের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। ছাব্বিশে বিজেপিকে মানুষ জবাব দেবে।’