Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়নের টাকা খরচের নিরিখে পিছিয়ে বিজেপির শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি

উন্নয়নের টাকা খরচের নিরিখে পিছিয়ে বিজেপির শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: উন্নয়নের টাকা খরচে জেলার অন্যতম ‘লাস্ট বয়’ বিজেপি পরিচালিত শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি। গোটা নদীয়ার নিরিখে একমাত্র নাকাশিপাড়া বাদে কার্যত কেউ নেই তাদের পিছনে। সদ্য প্রকাশিত পঞ্চদশ অর্থকমিশনের টাকা খরচের তালিকায় তলানিতে ঠাঁই হয়েছে তাদের। এখনও অর্ধেক টাকাই খরচ করতে পারেনি তারা। 

Advertisement

২০২৫-২৬ সালের পঞ্চদশ অর্থকমিশনের তরফে উন্নয়নের জন্য সবমিলিয়ে ১১৪.৮২ লক্ষ টাকা পেয়েছিল শান্তিপুর ব্লক। দেখা গিয়েছে, ৫৩.৩৩ লক্ষ টাকাই মাত্র তারা খরচ করতে পেরেছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে এতদিনে তাদের খরচের অঙ্ক ৪৬.৪৫ শতাংশ। জেলার বাকি পঞ্চায়েত সমিতিগুলোর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বিজেপি পরিচালিত শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি। এখনও খরচ করতে বাকি রয়েছে ৬১.৪৯ লক্ষ টাকা। প্রকাশিত তালিকায় তাদের এই দুর্দশার ছবি বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে। একমাত্র নীচে অবস্থান করছে নাকাশিপাড়া। তাদের সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৪৩.৭২ শতাংশ টাকা। এদিকে, জেলার শীর্ষে রয়েছে করিমপুর ২ ব্লক। রানাঘাট মহকুমার মধ্যে সবচেয়ে উপরে রয়েছে হাঁসখালি। জেলার তালিকায় তাদের স্থান চতুর্থ স্থানে। ইতিমধ্যেই হাঁসখালি ব্লক ৮৯.৩৪ শতাংশ টাকা খরচ করেছে। শুধুমাত্র পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রেই নয়, সমগ্র গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির মিলিত অর্থের যে খরচ, তাতেও জেলার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্থানে শান্তিপুর। অর্থাৎ নদীয়ার অন্যতম ‘পুওর পারফর্মিং’ ব্লক শান্তিপুর। পিছিয়ে পড়ার ধারাবাহিকতায় তাদের ইতিহাস রয়েছে। 
বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির কেন এই দুর্দশা? বিষয়টি নিয়ে বিজেপি পরিচালিত শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, আমরা দ্রুত টাকা খরচের চেষ্টা করছি। আমরাও চাই মানুষের উন্নয়ন করতে। কিন্তু উন্নয়নের কাজ এবং টাকা নিয়েও রাজনীতি চলছে। কোনওরকম প্রশাসনিক সহযোগিতা পাচ্ছি না। বিরোধী দল হওয়ায় আমাদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে রাজ্য প্রশাসন এবং শান্তিপুরের বিডিও। এই দায় বিডিওর। এ বিষয়ে আমরা আগেও আন্দোলন করেছি। আগামীতেও আবার করব। পাল্টা বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, উন্নয়ন করতে গেলে উন্নয়নের মানসিকতা থাকা দরকার। বিজেপির সেটা নেই। তাই ২০২৩ সাল থেকে প্রায় দু’বছর হয়ে যাওয়ার পরেও শান্তিপুর ব্লকে উন্নয়ন দেখা যায় না। বাগআঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। অথচ তালিকায় দেখা যাবে সেখানেও দশটি পঞ্চায়েতের মধ্যে নয় নম্বরে তাদের অবস্থান। আসলে গঠনমূলক মানসিকতা বিজেপির নেই। পাহাড় থেকে সমুদ্র আমাদের সরকার দেখিয়ে দিয়েছে উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়। 
অন্যদিকে, একই প্রসঙ্গে শান্তিপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ বলেন, চলতি সপ্তাহে আমরা কিছুটা টাকা কম খরচ করতে পেরেছি। তাই হয়তো পিছিয়ে রয়েছি। কিন্তু এই তালিকা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপরের দিকে উঠে এলে আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ