নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: জমি দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে প্রচারের আলোয় উঠে এসেছিলেন তিনি। সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ‘মুখ’ হিসাবে বিজেপি ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্রে প্রার্থী করে রেখা পাত্রকে। কিন্তু তিনি পরাজিত হন। ২৬-এর ভোটে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করে পদ্ম শিবির। জয়ী হয়ে তিনি এখন বিধায়ক। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল জমি ‘দখল’-এর চেষ্টার অভিযোগ! শুধু তাই নয়, আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে কৃষককে গালাগালি ও মারধর দিয়ে জমি থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিধায়ক। এনিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। বিজেপি বিধায়কের এহেন ‘দিদিগিরি’ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
সোমবার ঘটনাটি ঘটে সন্দেশখালির বউঠাকুরণ গ্রামে। জানা গিয়েছে, এই গ্রামে রেখাদেবীর বাপের বাড়ি। তাঁদের প্রায় ন’বিঘা জমি নিয়ে প্রতিবেশী কালিপদ নস্কর এবং তাঁর ছেলে সুভাষ নস্করের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শরিকি বিবাদ। ২০১৪ সালে রেখার বাবা ওই জমি রেকর্ড করাতে গেলে বিবাদের সূত্রপাত হয়। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশে সুভাষ নস্কর সেই জমিতে চাষ করার অধিকার পান বলে দাবি তাঁর পরিবারের। তাদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশে এদিন পুলিশের উপস্থিতিতে জমিতে চাষ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। তখনই সেখানে পৌঁছান বিধায়ক। সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কয়েকজন সঙ্গী। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দু’পক্ষ ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, রেখাদেবী নিজেও বচসা, ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েছেন। গালিগালাজের বন্যা বইছে। সন্দেশখালি থানার পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। সুভাষের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই তাঁদের জোর করে জমি থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গীরা। শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ। তবে এনিয়ে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি বলে দাবি পুলিশ সূত্রে। বিষয়টি নিয়ে রেখা পাত্রের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোন করা হয়। তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় না। কী ঘটনা ঘটেছে, জেনে মন্তব্য করব।’
এনিয়ে সন্দেশখালিজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, যে অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন রেখাদেবীরা, ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে সেই একই অভিযোগ উঠছে তাঁরই বিরুদ্ধে। নিজস্ব চিত্র