নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ‘টার্গেট’ করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। এই অবস্থায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই দুই সাংগঠনিক জেলার রিপোর্ট নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বেজায় অসন্তুষ্ট। সূত্রের খবর, বুধবার রাতে এই দুই জেলায় সংগঠনের বেহাল দশা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং অমিত শাহ। আর সেই খবর পৌঁছতেই বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে কার্যত কম্পন শুরু হয়ে গিয়েছে! তাহলে কি আগামী দিনে এই দুই জেলা নিয়ে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে দিল্লি? গেরুয়া শিবির কর্মীদের মধ্যে ঘুরফিরে আসছে এই প্রশ্নই। যদিও উত্তর ২৪ পরগনারই বারাকপুর ও বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন অসন্তোষের কথা জানা যায়নি।
নির্বাচনী রাজনীতিতে চালু একটি কথা হল, ‘বুথ যার সরকার তার’। এই কথা মাথায় রেখে ভোটের আগে বুথস্তরে ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেয় রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই কর্মসূচি সফল করতে জোরদার প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের এই তৎপরতাকে পাল্লা দিতে গিয়ে কার্যত ফাঁপরে পড়ে গিয়েছে পদ্ম শিবির। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, তাদের ‘বুথ স্বশক্তিকরণ’ কর্মসূচিতে অধিকাংশ বুথেই হিসেবে ‘জল’ মিশিয়ে সভাপতি বা অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম পাঠানো হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। বারাসতের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ দলের অন্দরে অত্যন্ত জোরালো। বসিরহাটের ক্ষেত্রেও এই একই পন্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বারাসত সাংগঠনিক জেলায় মোট ১৯৯৩টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ১,৬৭৩ টি বুথে সভাপতি নির্বাচন হয়েছে। বসিরহাটের বুথের সংখ্যা ১,৮৬৪। এর মধ্যে প্রায় ১৫০০টি বুথে কমিটি হয়েছে। বারাসতের এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার কথায়, ‘বুথ স্বশক্তিকরণে একাধিক পদাধিকারী নির্বাচিত করতে হয় ভোটাভুটির মাধ্যমে। বারাসতে তা হয়নি। কয়েকদিন পর বিধানসভা ভোটের কাজ শুরু হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে, আমাদের নেতৃত্বের অস্তিত্বই নেই। কোথাও একটা বসে পদাধিকারীদের নাম ঠিক করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। এনিয়ে অভিযোগও যায় রাজ্যস্তরে। এসব কারণেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’ বারাসত সংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘অমিত শাহের বিষয়টি আমার জানা নেই। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা যাবে না।’ বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘বুথ স্বশক্তিকরণ প্রক্রিয়া চলছে সঠিকভাবেই। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা টার্গেট পূরণ করে ফেলব। আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের জোর টক্কর হবে।’
এদিকে, বিজেপি তাদের বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদ থেকে মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে তাপস ঘোষকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তাপসবাবু জেলা সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।