


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাতজন এমপিকে নিয়েই কি সমাপ্ত হবে বিজেপির অপারেশন লোটাস? আম আদমি পার্টির নিজের তো বটেই, রাজনৈতিক মহলেরও অনুমান এটা সবেমাত্র সূত্রপাত। সাতজন এমপিকে দলে টেনে বিজেপি যে রাজনৈতিক মিশন শুরু করেছে, সেটি আদতে পাঞ্জাবের বিধানসভা ভোটের আগে একটি বিশেষ স্ট্র্যাটেজি।
আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোট। বিজেপি বহু চেষ্টা করেও কোনোদিন সরকারে আসতে পারেনি এবং এককভাবে রাজনৈতিক প্রভাবও নেই। যতটুকু ক্ষমতা ছিল সেটি শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে জোট থাকাকালীন। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ির তৈরি করা সেই জোট ভেঙে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদির আমলে। কংগ্রেস বনাম অকালি দলের দীর্ঘকালের ভোটযুদ্ধের মধ্যে আচমকা প্রবেশ করে আম আদমি পার্টি। এসেই তারা অপ্রত্যাশিত ভালো ফল করে সরকার পর্যন্ত গড়ে ফেলেছিল ২০২২ সালে। আম আদমি পার্টির সেই সরকারকে অস্থির করে দেওয়াই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের টার্গেট। সাত জন এমপির পর এবার বিজেপি ঝাঁপিয়েছে পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির বিধায়কদের মধ্যেও বিদ্রোহ রোপণ করে গণ ইস্তফার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। এই সম্ভাবনা এতটাই চিন্তায় ফেলেছে কেজরিওয়ালের দলকে যে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগওয়ান্ত সিং মান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। তিনি তাবৎ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু রাজ্যপালকে ছাপিয়ে কেন রাষ্ট্রপতির কাছে? এই উত্তর মিলছে না। আর ভগওয়ান্ত সিং মানের মনেই বা কী আছে? সেটাও জল্পনার কেন্দ্রে। আম আদমি পার্টি শনিবার সকাল থেকে নেমে পড়েছে তাদের সাত এমপি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে। রাঘব চাড্ডাকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী প্রজেক্ট করে পাঞ্জাব নির্বাচনে লড়াই করবে বলে প্রলোভন দেখিয়েছে বলে মনে করছে আপ। এই অবস্থায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা প্রধান চ্যালেঞ্জ। যদিও কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে অন্য দলের নেতাদের কেন কাছে টানছে? কারণ বিজেপির এইসব রাজ্যে কোনও মুখ নেই। নেতা নেই। সংগঠনও নেই। তাই খড়কুটো যা পাওয়া যায় সেটা ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা। কিন্তু পাঞ্জাবে আগামী বছরও বিজেপিকে শূন্য হাতে ফিরতে হবে।